12
তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাটো সম্মেলনে গিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে এমন ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র তো নয়ই, বরং দেশটি গাজার হামাসসহ সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। ওয়াশিংটন ও আঙ্কারা এমন সম্পর্কোন্নয়নে চরম হতাশ নেতানিয়াহু, একের পর এক সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন মার্কিন টিভিতে।
ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যাকে বরাবর খুব ভালো বন্ধু বলে আসছেন ট্রাম্প। এ সময় খোশ মেজাজেই দেখা গেছে দুই নেতাকে।
খুশির কারণ, তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান বিক্রি করে মোটা অংকের লাভ করবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তুরস্ক পাবে মার্কিন সমতুল্য সামরিক সক্ষমতা।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (তুরস্ক) বিমানগুলো কিনছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যখন আপনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বিমান কেনেন, তখন ইঞ্জিনের মেরামতসহ অন্যান্য কাজে সাহায়তা করা আমাদের দায়িত্ব।
এ সময় যুদ্ধবিমান বিক্রিই শুধু নয়, তুরস্কের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র— সেই ঘোষণাও দেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, ‘তুরস্ক ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্ক আরও জোরদার করার সময় এসেছে। আমরা নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিতে যাচ্ছি। আমরা বন্ধুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাই না। ব্যাপারটা খুবই সহজ।’
এ দিকে ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর যথারীতি চটেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সিএনএন ও ফক্স নিউজসহ বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে ক্ষোভ ঝেড়েছেন দখলদার এ নেতা। তার অভিযোগ— তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নয়। আঙ্কারা গাজার হামাসসহ অন্যান্য গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘তুরস্ক কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র নয়। তাদের হাতে এফ-৩৫ তুলে দেয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হবে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। আমি স্পষ্টভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছি, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি করা হলে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর হবে।’
অবশ্য, ট্রাম্পের ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে আঙ্কারা।
এরদোয়ান বলেছেন, ‘আপনারা জানেন, এফ-৩৫ বিষয়টি আমাদের জন্য নতুন নয়। আমরা আগেও আমেরিকার সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং পাঁচটি বিমানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। ট্রাম্পও এ ব্যাপারে আমাদের কথা দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সবসময় তাঁর কথা রাখেন। আমি বিশ্বাস করি যে, ইনশাআল্লাহ, এই শীর্ষ সম্মেলন থেকে এফ-৩৫ বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’
রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০২০ সালে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটিকে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকেও বাদ দেয় ওয়াশিংটন। যে পদক্ষেপকে অন্যায় বলেছিল তুরস্ক।
ছয় বছর পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিমান বিক্রির কথা জানালনে ট্রাম্প। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদনসহ কিছু আইনি বাধা পার হতে হবে।
টিএইচএ/