টানা কয়েক দিনের ভারী ও অতি ভারী বর্ষণে দেশের সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে পাহাড়ি ঢল ও প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের আরও ১০টি জেলা নতুন করে মাঝারি থেকে স্বল্পমেয়াদী বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জ—এই সাত জেলা বর্তমানে বন্যাকবলিত অবস্থায় রয়েছে। তবে আশার কথা হলো, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি ধীরগতিতে হ্রাস পেতে পারে। ফলে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আভাস রয়েছে।
তবে একই সময়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুরমা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদী অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় এবং উত্তরাঞ্চলীয় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী অববাহিকার নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।
সার্বিকভাবে দেশের ফেনী, খাগড়াছড়ি, সিলেট, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলা বর্তমানে নতুন করে বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। নদীগুলোর পানি সমতল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
টিএইচএ/
