আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: হরমুজ প্রণালিতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আবার হামলা চালাল তেহরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দু’টি তেলবাহী ট্যাংকারে আছড়ে পড়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। হামলায় নিহত হয়েছেন এক ভারতীয় নাবিক। জখম হয়েছেন আরও আট জন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জখম নাবিকদের মধ্যে ছ’জন ভারতীয় এবং দু’জন ইউক্রেনীয়।
এর আগে গত রবিবার (১২ জুরাই) সকালে ওমান উপকূলের কাছে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয়েছিল। জাহাজটিতে ১১ জন ভারতীয় ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে।
কিন্তু একজন এখনও নিখোঁজ। ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছিল দিল্লিও। এবার ফের হরমুজে ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলা চালাল ইরান।
মঙ্গলবার ভোরে তেলবাহী দু’টি ট্যাংকার— মোম্বাসা এবং আল বাহিয়াকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরান। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, হামলার সময়ে দু’টি জাহাজই ওমানের জলসীমায় ছিল। সেখানে তাদের ওপর হামলা হয়েছে।
ইরানি আক্রমণে নিহত ভারতীয় নাবিক ছিলেন মোম্বাসা জাহাজে। ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় দু’টি ট্যাংকারেই আগুন ধরে যায়। যদিও পরে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন নাবিকেরা।
তেলবাহী দুই জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এটিকে একটি ‘নির্লজ্জ আক্রমণ’ বলে বর্ণনা করেছে তারা। সঙ্গে এ-ও জানিয়েছে, এই হামলার পূর্ণ জবাব দেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
অন্য দিকে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরও (আইআরজিসি) ইতিমধ্যে একটি বিবৃতি দিয়েছে। হরমুজে দু’টি জাহাজ ধ্বংসের কথা স্বীকার করেছে তারা।
বিবৃতিতে ইরান জানিয়েছে, হরমুজে দু’টি ‘সুপারট্যাংকার’ (বড় আকারের জাহাজ) আক্রান্ত হয়ে অকেজো হয়ে গিয়েছে। আইআরজিসি-র দাবি, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই হরমুজ দিয়ে এগোচ্ছিল জাহাজগুলি।
নেভিগেশন সিস্টেম (দিকনির্ণয় ব্যবস্থা) বন্ধ করে দিয়ে মাইন পাতা একটি পথ দিয়ে এগোনোর চেষ্টা করছিল জাহাজ দু’টি। ওই দু’টিতে হামলা করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা কোনও জাহাজের নামোল্লেখ করেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত যে দু’টি জাহাজের কথা বলছে, ইরানও সেই দু’টি জাহাজের কথাই বলছে কি-না, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। ইরানের দাবি, হরমুজে ‘অবৈধ ভাবে’ চলাচলের জন্য জাহাজগুলিকে উস্কানি দিচ্ছে আমেরিকা।
