সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকার একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় চরম উদ্বেগ জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটি আল-হাইআতুল উলয়া বা এর অধীন ছয় বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, ওই মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে চার শিক্ষক ও ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে শিশুটিকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের অভিযোগ এবং বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া, ভুক্তভোগীর পরিবারকে নীরব থাকতে বলা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, ঘটনাটি যেহেতু প্রতিষ্ঠানটির অধিভুক্ত কোনো মাদ্রাসায় ঘটেনি, তাই সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রশাসনিক বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়ার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টির প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত দিক অনুসন্ধানের জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আল-হাইআতুল উলয়া বলেছে, অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষক বা শিক্ষার্থী—পরিচয় ও অবস্থান বিবেচনা না করে প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে তদন্তে সহযোগিতা এবং কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আড়াল, রক্ষা বা পলায়নে সহায়তা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যক্তি অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা বা ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া।
আল-হাইআতুল উলয়া ও এর অধীন ছয় বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত কওমি মাদ্রাসাগুলোকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধান জোরদার, শিশু সুরক্ষা নীতিমালা অনুসরণ এবং অভিযোগ জানানোর সহজ ও নিরাপদ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গোপন বা ধামাচাপা না দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধান প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষ থেকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের সুযোগ ও প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুটির চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও মানসিক পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।
আল-হাইআতুল উলয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মুঃ অছিউর রহমানের স্বাক্ষরিত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
