স্থানীয় নির্বাচনে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করুন: পীর সাহেব চরমোনাই

by hsnalmahmud@gmail.com

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারই এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কোনো সরকারই শ্রমিকবান্ধব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও শ্রমব্যবস্থা গড়ে তোলেনি। শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধোঁকাবাজ, চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বর্জন করে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করতে হবে। ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্বশীলদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
banner

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত জাতীয় শ্রমিক কাউন্সিল ’২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, অটোরিকশাচালকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন না করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তাঁদের সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চালানোর সুযোগ করে দিতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা ও অধিকার রক্ষা করে একটি সুশৃঙ্খল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। শ্রমিকদের মুক্তি, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ গতানুগতিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতো নয়। অন্যত্র চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ শ্রমিকদের আদর্শিকভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দ্রুত শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলান মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, দেশব্যাপী ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে সরকারের প্রতি মানুষের তিক্ততা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যথায় সরকারও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ বিগত সময়ে ৮২টি শ্রমিক শ্রেণির মাঝে কাজ করেছে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে।

ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, সমাজের সর্বস্তরের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত দুর্বার গতিতে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়সংগত পাওনা নিশ্চিত করতে সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয় কাউন্সিল থেকে প্রধান অতিথি মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই আগামী ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান, সহ-সভাপতি হিসেবে কে এম বিল্লাল হোসাইন এবং সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে এইচ এম রফিকুল ইসলামকে মনোনীত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222