‘ইতিহাস ঐতিহ্য ও অগ্রজ’ নামের ইতিহাস গবেষণা কেন্দ্র প্রথমবারের মত আজ ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ উৎযাপন হতে যাচ্ছে বুজুর্গ উমেদ খাঁ’র নেতৃত্বে চট্টগ্রামের স্থায়ী বিজয়ের দিবস।
বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ শিল্প-বানিজ্য ও আধ্যাত্মিক নগরী চট্টগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম দুনিয়া জুড়ে । কিন্তু একজন ব্যক্তির আগমন না হলে হয়তো এই চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারত।
আর সেই ব্যক্তিটি হলেন মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর পুত্র, চট্টগ্রাম বিজয়ের মহানায়ক বুজুর্গ উমেদ খাঁ!
বঙ্গের সুলতানদের হটিয়ে এক জটিল রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে মধ্যযুগে প্রায় শত বছর চট্টগ্রামে রাজ কায়েম হয়েছিল মগদের (আরাকান নিবাসী জাতি বিশেষ।)!
১৬৬৬ সালের ২৭ জানুয়ারি সেই যে চট্টগ্রাম বাংলাদেশের (তৎকালীন সুবা বাংলা) অন্তর্ভুক্ত হলো, এরপর থেকে আর কখনও বাংলার প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক আওতার বাইরে যায়নি চট্টগ্রাম।
আওরঙ্গজেবের নির্দেশে চট্টগ্রাম বিজয়ের উদ্দেশ্যে ফেনী নদী পার হয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে বুজুর্গ উমেদ খাঁ অগ্রসর হন।
বিশাল সৈন্যবহর সঙ্গে থাকলেও উত্তর চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জঙ্গল বুজুর্গ উমেদ খাঁর সামনে বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছিল! তাই তিনি সৈন্যদলকে নির্দেশনা দিলেন যে, গাছ কেটে কেটে রাস্তা তৈরি করে অগ্রসর হও! মোগল সৈন্যদল দিনরাত এক করে রাস্তা তৈরি করল চট্টগ্রাম নগরে প্রবেশের।
জানুয়ারির শেষ দিকে এসে বুজুর্গ উমেদ খাঁর বাহিনী মূল চট্টগ্রাম নগরে এসে পৌঁছায়। এদিকে সমুদ্রপথেও মোগল বাহিনী নৌ-সেনাপতি ইবনে হোসেন মনসুর খাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে নোঙর করতে সক্ষম হয়। স্থল ও নৌ- দুই বাহিনী মিলিত হয়ে ১৬৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি আক্রমণ করে আরাকানদের ওপর। আরাকানদের শক্ত ঘাঁটি চাটগিছা কিল্লায় (আন্দরকিল্লা) টানা তিনদিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয় মোঘল এবং মগদের। অবশেষে ২৬ জানুয়ারি পদানত হয় আরাকান বাহিনী। ১৬৬৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বিজয়ী বীরের বেশে আন্দরকিল্লা দুর্গে বিজয়ের পতাকা উড়ান সেনাপতি উমেদ খাঁ! তখন চট্টগ্রামের নাম ছিল চাটিগাঁও। পরে মোঘল বাদশাহ আওরঙ্গজেব আলমগীরের নির্দেশে চট্টগ্রামের নতুন নামকরণ করা হয় ‘ইসলামাবাদ’।
তিনি চট্টগ্রামজুড়ে অনেকগুলো মসজিদ, লাইব্রেরি, সরাইখানা স্থাপন করেন। আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদ, চন্দনপুরার হামিদিয়া তাজ মসজিদ, বটতলীর বায়তুল হামদ হাশেমী মসজিদ ইত্যাদি। বুজুর্গ উমেদ খাঁ নিযুক্ত হলেন চট্টগ্রামের প্রথম মোগল ফৌজদার!
এই মহান মানুষের কারণে আজকের বীর চট্টলা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রাণশক্তি হয়ে বিশ্বের বুকে দাঁড়িয়ে আছে সগৌরবে।
এই দিনটিকে ও ইতিহাসকে স্বরণ করিয়ে দিতে এবং এই তাঁর অবদানকে সবার কাছে ছড়িয়ে দিতে আজ ‘ইতিহাস ঐতিহ্য ও অগ্রজের সন্ধানে’ নামের ইতিহাস চর্চা ও গবেষনা কেন্দ্র প্রথমবারের এই বিজয় দিবস পালন করছে।
এএ/
