২০১৩ সালে শাপলা চত্বর ও ২০২১ সালে মোদীবিরোধী আন্দোলনে শাহাদতবরণকারী শহিদদের স্মরণীয় করে রাখতে স্মারক প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
পরিবারের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া সাতমসজিদ মাদ্রাসা মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শহিদ পরিবারের সম্মানে ইফতার মাহফিলে এ স্মারক প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।
তিনি বলেছেন, ‘জাতির সামনে শহিদদের ত্যাগ উপস্থাপনার জন্য হেফাজত উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করব।’
মামুনুল হক বলেন, ‘শহিদ ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের পাশে আমরা আছি। সামনে সবাইকে নিয়ে বড় আয়োজন করব। যাদের মামলা আছে তাদেরও সহযোগিতা করব। ইসলামের পক্ষে যারাই হয়রানির শিকার হবেন তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ৯ জন শীর্ষ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হেফাজতে ইসলামের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফাতেহ মোহাম্মদ ইফতেখার আলম বলেছেন, ‘৫ মে শাপলা চত্বর বাংলাদেশ ইতিহাসে সবচেয়ে বর্বর ঘটনা। অথচ হাসিনা পরের দিন বলেছেন রং মেখে নাকি শুয়ে ছিল। আজকে সুযোগ এসেছে জড়িতদের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর। আমরা মামলা করেছি। এ তদন্তের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে।’ এ তদন্তকাজ এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেছেন, ‘আপনারা জানেন হাসিনা বলেছিলেন শাপলাতে কিছুই হয়নি। আহমদ শফীসহ সবাইকে চাপ দিয়ে শোকরানা মাহফিল করিয়ে শেখ হাসিনার সামরিক সচিব হত্যাকাণ্ডকে অস্বীকার করেছেন। আমরা নাকি কোরআন পুড়িয়েছি! আমরা নির্বাচনের আগে হাসিনা ও তার দোসরদের আগে বিচার চাই।’
ইফতার শেষে প্রত্যেক পরিবারের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। শহিদের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন শহিদ হাফেজ মাওলানা আনোয়ার শাহের বাবা আবুল হাসনাত, শহিদ ঈশা হক আলীর ছেলে আবু সাইদ, শহিদ খালিদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহর ভাই নাজমুল আলম, শহিদ মোহাম্মদ আকবরের ভাই মোহাম্মদ মনির হোসাইন, শহিদ মাওলানা ইউনুস আলীর বাবা মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন, হেজাজতের নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা জালালুদ্দিন, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা ফয়সাল আহমাদ, মাওলানা আফসার মাহমুদ, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা মুফতি শরিফুল্লাহ, মাওলানা এহসানুল হক, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ, মুফতি মোহাম্মাদুল্লাহ প্রমুখ।
এনএ/
