বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপনে এবার রাজধানীতে ব্যতিক্রমী এক চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে মূলধারার সাংস্কৃতিক আয়োজন থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকা ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এবার সরব উপস্থিতি জানিয়েছে। রাজধানীতে আয়োজন করেছে শোভাযাত্রা, মেজবান এবং দিনব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সোমবার সকালে রাজধানীর মুক্তাঙ্গন থেকে ‘জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’-এর উদ্যোগে বের হয় ‘বাঙলা নবযাত্রা ১৪৩২’ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শিল্পকলা একাডেমি হয়ে টিএসসি চত্বর ঘুরে আবারো মুক্তাঙ্গনের দিকে ফিরে আসে।
উৎসবমুখর আয়োজন
‘আমাদের নববর্ষ, আমাদের সংস্কৃতি’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় মৎস্য ভবন সড়কে দিনব্যাপী আয়োজনে কবিতা, সংগীত, কথনসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দুপুরে আয়োজন করা হয় ‘বাঙলা মেজবান’ যেখানে ভাত, গরুর মাংস ও মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয় দর্শনার্থীদের জন্য।

বিকেলে শুরু হবে ‘বাংলা সাংস্কৃতিক উৎসব’। এতে গান, কবিতা ও কথন পরিবেশন করেন দেশজুড়ে খ্যাতিমান শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বেরা। অংশ নেয় বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় সাংস্কৃতিক দল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি মুহিব খান। উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট আলেম, চিন্তাবিদ, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী।
আয়োজকদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে তারা বাংলা নববর্ষের মতো সার্বজনীন আয়োজনে অংশ নিতে পারেননি। এবার “ফ্যাসিবাদমুক্ত” পরিবেশে স্বাধীনভাবে অনুষ্ঠান করতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এদিকে, শাহবাগ এলাকায় দিনব্যাপী আরেকটি আয়োজন করেছে ‘সাংস্কৃতিক ঐক্যফ্রন্ট’। সেখানেও প্রদর্শিত হয় বাঙালি মুসলিম সাংস্কৃতি।।
বাংলা নববর্ষকে ঘিরে এই নতুন প্রবণতা অনেককে আশাবাদী করেছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবধারার বৈচিত্র্যের মধ্যেও মিলনের একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে এসব আয়োজনকে।
এনএ/
