পাঁচ বছর পর আবারও শিরোনামে ফিরেছে করোনাভাইরাস। নতুন একটি ধরন নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। করোনার এনবি.১.৮.১ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মিলেছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, চীন ও হংকংয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, নতুন এই ধরনটি আগের যেকোনো ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে সহজে ছড়াতে পারে, যদিও এটি এখনো প্রাণঘাতী বলে প্রমাণিত হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট জানায়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণের প্রায় ১০ শতাংশই এনবি.১.৮.১ ভ্যারিয়েন্টজনিত। এপ্রিলের শেষ দিকে জমা পড়া জিনগত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিকোয়েন্সের ১০.৭ শতাংশই ছিল এই ভ্যারিয়েন্টের। অথচ মার্চে এর হার ছিল মাত্র ২.৫ শতাংশ।
ডব্লিউএইচও ইতোমধ্যে এই ভ্যারিয়েন্টকে “ভ্যারিয়েন্ট আন্ডার মনিটরিং” হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সংস্থার এক মুখপাত্র বলেন, “চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নতুন এই ধরনের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর বিস্তার খুব দ্রুত হলেও তা মারাত্মক নয়।”
যুক্তরাজ্যের রেনো স্কুল অব মেডিসিনের মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজির অধ্যাপক সুভাষ ভার্মা সিবিএস নিউজকে বলেন, “নতুন ভ্যারিয়েন্টটি পূর্ববর্তী ওমিক্রন সাবভ্যারিয়েন্টের মতো লক্ষণ সৃষ্টি করছে। এতে ক্লান্তি, জ্বর, পেশী ব্যথা ও গলা ব্যথা দেখা যায়। তবে এটি এখনো গুরুতর অসুস্থতার কারণ হচ্ছে না বলে প্রাথমিক তথ্য বলছে।”
এদিকে, বাংলাদেশেও করোনার এই নতুন ধরন নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মাস্ক পরার আহ্বান জানানো হয়েছে শুক্রবার এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কোভিড–১৯ সংক্রমণ হারের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সকলকে মাস্ক পরার অনুরোধ করা হচ্ছে। বিশেষত বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের এমন স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
দেশে ২০২২ সাল থেকে করোনা সংক্রমণ কমে এলেও সম্প্রতি রাজশাহীতে করোনার নতুন করে প্রকোপ ধরা পড়েছে। জেলার স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্র জানায়, দুই দিনে ২৬টি নমুনা পরীক্ষায় ১৩টিতে সংক্রমণ ধরা পড়ে, যা প্রায় ৫০ শতাংশ হার। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলছেন স্বাস্থ্য বিশ্লেষকেরা।
এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, নতুন এই ভ্যারিয়েন্টেও আগের মতোই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে একটানা কাশি, গলা ব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, চোখ লাল হওয়া (কনজাংটিভাইটিস) ও বিভ্রান্তি। আক্রান্তদের বেশিরভাগই বাড়িতে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠছেন, তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত ছড়ানোর সক্ষমতা থাকলেও এনবি.১.৮.১ এখনো বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়নি। তবে সতর্ক না হলে পরিস্থিতি আবারও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনএ/
