সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দ্রুত বিদ্যালয়ে যোগদান ও পদায়নের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও গণজমায়েত শুরু করেছেন। রোববার সকাল থেকেই ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে শাহবাগে জড়ো হতে থাকেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন পার হলেও এখনো বিদ্যালয়ে পদায়িত হতে পারেননি। নিয়োগের সকল ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় বেকার বসে থাকা তাদের জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তারা আগস্ট মাসের মধ্যেই সুনির্দিষ্ট পদায়ন ও যোগদানের দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনের মুখে রোববার সকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে যোগদানের তারিখ কিছুটা এগিয়ে এনেছে। বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কাছে ডাকযোগে বা প্রশাসনিক মাধ্যমে নিয়োগপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে এবং যোগদানের পরই পদায়ন প্রক্রিয়া শেষ করে মৌলিক প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন আগামী ২৯ অক্টোবর যোগদানের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন, যা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ১ অক্টোবরে পুনর্নির্ধারণ করা হলো।
তবে যোগদানের তারিখ অক্টোবরে নির্ধারণ করা সত্ত্বেও শাহবাগ থেকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের তাৎক্ষণিক কোনো ঘোষণা দেননি আন্দোলনরত প্রার্থীরা। তাদের প্রতিনিধি সমন্বয়ক দেবব্রত সরকার জানান, দীর্ঘ সময় পার করার পর অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন করে এক ধরণের ভোগান্তি। তারা আগস্ট মাসের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি ও যোগদানের সুনির্দিষ্ট তারিখ চান। মন্ত্রণালয় থেকে সন্তোষজনক আশ্বাস ও দাবির পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ব্যতিরেকে দেশের ৬১টি জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরবর্তীতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করে ফলাফল প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
টিএইচএ/
