আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা গত পাঁচ বছরে অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে উল্লেখ করে দেশটির ওপর আরোপিত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা ও পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ আফগানিস্তান বিষয়ক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান অনমনীয় নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার মধ্যে এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন থাকা জরুরি।
বৈঠকে ভারতীয় দূত পার্বথানেনি হরিশ বলেন, আফগান জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধন এবং দেশটির নীতিসমূহকে সঠিক ও ইতিবাচক দিকে পরিচালিত করতে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন কার্যকর নীতিগত কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে থাকার পুরনো নীতি বর্তমানে ধীরে ধীরে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। একই বৈঠকে তিনি আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানান। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের (ইউনামা) একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের এই বিমান হামলার কারণে আফগানিস্তানে বিপুল সংখ্যক সাধারণ বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। নিজের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ব্যর্থতার জন্য প্রতিবেশীদের ওপর দোষ চাপানো পাকিস্তানের একটি পুরনো অভ্যাস বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পার্বথানেনি হরিশ আরও অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তান স্থলবেষ্টিত দেশ আফগানিস্তানের ওপর বিভিন্ন বাণিজ্য ও ট্রানজিট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। একটি ভূবেষ্টিত দেশের বৈধ বাণিজ্য পথ অবরুদ্ধ করা স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের মূল নীতি ও ঘোষণার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পাকিস্তানের এই আচরণ আফগানিস্তানের ভৌগোলিক দুর্বলতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের শামিল। এদিকে, ইউনামা-এর রাজনৈতিক বিষয়ক ডেপুটি স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ জর্জেট গ্যাগনন বৈঠকে জানান, বর্তমান কর্তৃপক্ষের অধীনে আফগানিস্তানের সামগ্রিক পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাদের শাসনের বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের সশস্ত্র বা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নেই। তালেবান কর্তৃপক্ষও এটিকে তাদের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে। তবে তিনি যোগ করেন, আফগানিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ মূলত বর্তমান শাসক কাঠামোর অভ্যন্তরীণ গতিশীলতার ওপর নির্ভর করছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়াই তাদের নিয়ন্ত্রণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু চং-ও আফগানিস্তানের বর্তমান স্থিতিশীলতার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশটিতে মানবিক সহায়তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনো অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর রূপ নিয়ে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আফগান জনগণের কল্যাণ এবং দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আফগানিস্তানের বর্তমান কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে যৌথভাবে এগিয়ে যাওয়া উচিত। উল্লেখ্য, আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে ইউনামা ঘোষিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভার মধ্যে এটি ছিল প্রথম বৈঠক। আগামী ১৬ জুনের পরবর্তী বৈঠকে আফগানিস্তানে ইউনামা-এর কার্যক্রমের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করা হবে।
টিএইচএ/
