আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চরম অমানবিক আচরণের শিকার হয়ে এক ফিলিস্তিনি নারী তার অনাগত সন্তানকে হারিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে নাবলুসের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত আওয়ারতা সামরিক তল্লাশি চৌকিতে (চেকপোস্ট)। সোমবার (২৭ জুলাই) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ এবং ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’-র বরাত দিয়ে এই হৃদয়বিদারক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, নাবলুসের কারিউত শহরের বাসিন্দা ওই নারী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। হঠাৎ তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় একটি অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু আওয়ারতা চেকপোস্টে পৌঁছালে ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা ফটক বন্ধ করে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটির গতিপথ আটকে দেয় এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের কাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে।
কারিউতের অ্যাম্বুলেন্স কর্মকর্তা বাশার আল-কারিউতি জানান, গুরুতর অসুস্থ ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও ওই গর্ভবতী নারীর ওপর জোরপূর্বক তল্লাশি চালায় ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা। শুধু তাই নয়, তারা চিকিৎসাদলের এক সদস্যকে আটক করে এবং জোরপূর্বক অ্যাম্বুলেন্সের ইঞ্জিন বন্ধ করতে বাধ্য করে। এর ফলে গাড়িতে থাকা জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং লাইফ সাপোর্ট ব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে, যা গর্ভস্থ শিশুর অকালমৃত্যু ডেকে আনে।
দীর্ঘ আধঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখার পর অবশেষে অ্যাম্বুলেন্সটিকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা গর্ভস্থ শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় ওই ফিলিস্তিনি নারীর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এমন ধারাবাহিক অবরোধ ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
টিএইচএ/
