আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বিষ্ফোরক মন্তব্য করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গোপনে বহু দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে চায়। অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই রাজনৈতিক বা অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে ইসরায়েলের সাথে প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সাইবারনিরাপত্তার মতো খাতে সহযোগিতা ও চুক্তি বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের আর কোনো শক্তিশালী বন্ধু নেই বলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে ইসরায়েলি মন্ত্রীদের অসন্তোষ ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে একটি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
তিনি বলেছিলেন, “ইসরায়েলি প্রশাসনের উচিত হবে না বিশ্বের বুকে টিকে থাকা তাদের ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের দ্বন্দ্বে জড়ানো বা বৈরী আচরণ করা।”
গতকাল রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ভ্যান্সের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অনেক দেশের নেতা তার সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি করার জন্য গোপনে যোগাযোগ করছেন।
নেতানিয়াহু জানান, তিনি জেডি ভ্যান্সকে সম্মান করেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের ‘সবচেয়ে বড় বন্ধু’ মনে করেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভ্যান্স যা বলবেন তার সবকিছুর সঙ্গেই তিনি একমত হবেন।
তিনি বলেন, ‘অনেক দেশের নেতাই আমাকে ফোন করে বলেন, দেখুন, জনমত নিয়ে আমি কিছুটা সমস্যায় আছি। তবে আমি আপনাকে জানাতে চাই যে আমরা আপনাকে শ্রদ্ধা করি—এবং শুনুন, আমরা কি কিছু চুক্তি করতে পারি?’
এসময় ভ্যান্সের মন্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু কিছুটা কটাক্ষ বা খোঁচা দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও আমাদের আরও কিছু বন্ধু আছে, যেমন ভারত নামের একটি ‘ছোট দেশ’। সেখানে ১৪০ কোটি মানুষ বসবাস করে এবং আপনারা ধারণাও করতে পারবেন না যে সেখানে আমাদের জন্য কত বিপুল ও চমৎকার সমর্থন রয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, তার ফেসবুক পেজ ভারতীয়দের দেওয়া অজস্র সমর্থনসূচক বার্তায় ভেসে যায়।
প্রসঙ্গত, মার্কিন-ইরান চুক্তি এবং লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মাঝেই নেতানিয়াহুর এই ধরণের বক্তব্য সামনে এলো।
ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, জেডি ভ্যান্সের মতো শীর্ষ মার্কিন নেতার মন্তব্য এবং তার জবাবে নেতানিয়াহুর পাল্টা খোঁচা প্রমাণ করে যে, দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ফাটল এখন আর পর্দার আড়ালে নেই। অন্যদিকে গাজা ও লেবানন যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা ইসরায়েল আসলে আন্তর্জাতিকভাবে কতটা কোণঠাসা, তা ঢাকার জন্য নেতানিয়াহু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের সমর্থনের কথা টেনেছেন।
