বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের কর্মকাণ্ড ও তাদের মিত্রদের দায়মুক্তি দেওয়ার প্রবণতা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর দেওয়া তাঁর বক্তব্যের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
আরাঘচি বলেন, এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। এই প্রতিপাদ্যই প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থতার কারণে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা কমে গেছে কিংবা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দেশ নিজেদের এমন অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেন আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও মানবতার সম্মিলিত বিবেককে উপেক্ষা করেও তারা দায়মুক্তি পেতে পারে। এসব দেশ নিজেদের পাশাপাশি মিত্রদের জন্যও দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে।
দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসরাইলকে ইচ্ছামতো কর্মকাণ্ড পরিচালনার অবাধ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অথচ যেসব পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশ নিজেদের মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের রক্ষক হিসেবে দাবি করে, তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিন, গাজ্জা, লেবানন ও ইরানে সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে এসব দেশ কার্যকর নিন্দাও জানায়নি। এমন দেশগুলোর প্রভাবাধীন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর আস্থা না থাকাই স্বাভাবিক।
আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, ইরান এখনো কার্যত যুদ্ধাবস্থার মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানি জনগণের অধিকার, ন্যায্য অবস্থান ও জাতীয় স্বার্থ তুলে ধরা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন জাতিসংঘের প্রতি কীভাবে আস্থা হারিয়ে গেছে এবং সেই আস্থা কীভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
সূত্র : প্রেস টিভি, আইআরএনএ ও আল জাজিরা
