মোঃ নিজাম উদ্দিন স্বাধীন (স্টাফ রিপোর্টার)
ঢাকা-৪ আসনের (শ্যামপুর-কদমতলী) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন এলাকার তরুণদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা যারা তরুণ উদ্যমী আছি আমাদের সবাইকে দিনরাত পরিশ্রম করে এই এলাকার পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু মুখে বল্লেই পরিবর্তন আসে না।পরিবর্তন আসে কাজের মাধ্যমে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে ৩১ টি দফা ও নয়টি পরিকল্পনা করেছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকলের আস্তা আর ভালোবাসা নিয়ে সরকার গঠন করলে আমাদের সবার কাজ হবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রাজধানীর নির্বাচনী আসন১৭৭ ঢাকা-৪ এর কদমতলী থানাধীন ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী প্রচারণার সময় চেয়ারম্যান বাড়ি কলেজ রোডে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
রবিন বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসলে নয়টি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে সবার আগে দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ দূর্দশার অবসান করা হবে। দেশনায়ক তারেক রহমান পরিবারের সকল সদস্যের জন্য পরিকল্পনা করলেও নারীকে সর্যাদা দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি।
বিএনপি’র করা নয় পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, বাবাদের জন্য কৃষি কার্ড, সন্তানদের মানসম্মত ও সময়োপযোগী আধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থা , স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কমিউনিটি সেন্টার ও হাসপাতাল নির্মাণ , খেলাধুলার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে মাঠ তৈরি, কর্মসংস্থানের জন্য মেধাভিত্তিক নিয়োগ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার , নদী ও পরিবেশ রক্ষায় পঁচিশ কোটি বৃক্ষ রোপন এবং পার্ক নির্মাণ, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও আলেম সমাজের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং সর্বশেষ দূর্ণীতি মুক্ত বাংলাদেশ গঠনে কার্যকারী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
নিজ এলাকাকে ডেঙ্গুর আতুরঘর উল্লেখ করে তিনি বলেন,
জুরাইন নাম শুনলেই অনেকেই মনে করে ডেঙ্গু রোগের কারখানা। ডেঙ্গু প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার মূল করণ এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা কারণ আমাদের বেশিরভাগ রাস্তায় ড্রেন নাই। আর যেখানে ড্রেন আছে উন্নয়নের রাস্তা ও ড্রেন উচু করা হয়েছে। উচু করতে করতে এক তলা নিচে চলে গেছে। রাস্তা নির্মান তো করেনি তারা করেছে চুরি। ফলে আমাদের এলাকা অপরিকল্পিত নগরে পরিণত হয়েছে।
এই চেয়ারম্যান বাড়ির মোড় মাদকের আকড়া, গুন্ডাপান্ডার আকড়া, অস্ত্রবাজরা এখানে বসবাস শুরু করেছে।
সকল অনিয়ম আর অপরিকল্পিত নগরকে সুপরিকল্পিত করার লক্ষ্যে তার করা ২০ টি অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনাদের কাছে গিয়ে সমস্যা খুজে বের করে বিশটি অঙ্গিরার করেছি।যার ভেতর অনেকগুলো আমরা সবাই মিলে কাজ করলে সমাধান করা যাবে আর কিছু সমস্যার সমাধান এলাকার মানুষই করতে পারবে। এছাড়া যে সমস্যাগুলো মেজর সেগুলো আমরা সংযুক্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করতে চেষ্টা করবো।
এলাকার মুরুব্বিদের যোগ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে বলে তিনি বলেন,বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলে দেখেছি আমাদের আলেম সমাজ ও মুরুব্বিদের মর্যাদা দেওয়া হয়নি, অন্যায় দেখে চুপ থাকতে হয়েছে, কথা বল্লে জঙ্গিবাদ বলে জেলে দিয়েছিল। মূলত আমাদের ধর্ম প্রচার বাধাগ্রস্ত করার জন্য তাদের জঙ্গি বলা হয়েছিল। একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার একটা অপসংস্কৃতির প্রচলন হয়ে উঠেছিল এ এলাকায়।আমরা এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে চাই।এমন একটি জায়গা তৈরি করতে চাই যেখানে সবাই মিলে মুক্ত আলোচনা করতে পারবে। সমস্যা সামনে আসবে, দশে মিলে সিদ্ধান্ত নেলে তা সমাধান হয়ে যাবে
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন দেশের মানুষের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাই আমি তার সন্তান হিসাবে বলতে চাই আমরা এই এলাকার মানুষের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাই। মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন না হলে সমাবেশ করে কোন লাভ নাই।
এলাকার মানুষ আস্থা নিয়ে ভোট দিলেই পরিশ্রম করে সেই আস্থার প্রতিফলন করতে হবে উল্লেখ করে বলেন,
আমার পরীক্ষিত নেতা প্রয়োজন, আমার কাছে হঠাৎ এসে আপনার ফায়দা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। আমার এমন নেতা প্রয়োজন যারা বিগত বছরগুলোতে কাজ করেছে। যারা মানুষের সুখে দুঃখে পাশে দাড়িয়েছে।নির্বাচনে জিতলেই কাজ শেষ নয় বরং শুরু। তখন মানুষের ভোটের প্রতিদান আপনাদের কাজের মাধ্যমে দিতে হবে।দিনরাত পরিশ্রম করে কাজ করতে হবে। মানুষের পাশে দাড়াতে হবে।
তিনটি নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেিওয়া হয়েছিল এমন মন্তব্য করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার মানুষের বাকস্বাধীনতা যেমন হরণ করেছিল তেমনি মানুষের ভোটাধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মানুষ আজ প্রায় আঠারো বছর পর ভোটের স্বাধীনতা পেয়ে অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছে তাদের পছন্দের এবং যে বিগত সময়ে তাদের পাশে ছিল তাকে ভোট দিয়ে আগামীতে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে দায়বদ্ধ সরকার গঠন করার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।
ইসলামের ভিন্ন তর্জমা করে একটি ভন্ড দলের অপকর্মের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন কানে তুলা আর চোখে পট্টি পরে বসে আছে। একটি ভন্ড দলের লোকজন বাড়িতে গিয়ে টাকা দিচ্ছে, বিকাশ নম্বর নিচ্ছে আপনারা কি করছেন।
দেশবাসীকে ভোটের মাধ্যমে ভন্ড আর মুনাফেকদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে আজ আমাদের মা বোনেদের এই ভন্ডদলের প্রধান পন্যের সাথে তুলনা করে, আমার কর্মজীবী মায়েদের বোনেদের পতিতাবৃত্তির সাথে তুলনা করে। এহেন ঘৃণ্য, জঘন্য বার্তার তীব্র নিন্দা জানায়। নামের শেষে ইসলাম থাকলেও এরা ভন্ড আর প্রতারক।
প্রধান বক্তা হিসাবে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী মীর হোসেন মীরু, বিশেষ অতিথি কদমতলী থানা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু নাসের ফকির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেরাজুল ইসলাম বাবুল, উপজেলার ৫২,৫৩,৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর খালেদা আলম ছাড়াও পথসভায় সভাপতিত্ব করেন আলমগীর খান লিপু এবং সঞ্চালনায় করেন আনোয়ার হোসেন স্বপন ও লুৎফুল কবির চৌধুরী।
এমএআর/
