জুলাইয়ের চেতনা বেচে বেশি দিন রাজনীতি করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

by Abid vs36

“জুলাইয়ের ঐতিহাসিক রক্তস্নাত চেতনাকে স্রেফ বিক্রি করে বেশি দিন রাজনীতি টিকিয়ে রাখা যাবে না। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মুখরোচক কথা বলে যদি পর্দার আড়ালে পুরনো ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্তের পথেই হাঁটা হয়, তবে সেই রাজনীতি এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। আর যারা এই নতুন বন্দোবস্তের কথা বলছেন, তাঁদের উচিত জনগণের সামনে সেই রূপরেখা স্পষ্টভাবে ও সৎভাবে তুলে ধরা।” আজ রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার মূল আকাঙ্ক্ষা ও রক্তের ঋণ শোধ করতে সংবিধান সংশোধন করা হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটি, দেশের বরেণ্য শিক্ষক, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীসহ সব অংশীজনের সঙ্গে গভীর আলোচনার মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সংস্কারের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে। মনে রাখতে হবে, সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে কোনো টেকসই রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, যারা মাঠপর্যায়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবি তুলছে, তারা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেয়নি।”

বিজ্ঞাপন
banner

তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু আইন প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিক সংশোধন অপরিহার্য। এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের দৃঢ় অঙ্গীকার করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা প্রায় ১৩৩টি জরুরি অধ্যাদেশের অধিকাংশকেই বর্তমান নির্বাচিত সরকার ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করেছে। যেগুলোতে আরও পরিমার্জনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সংশোধন করা হবে।”

বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংবিধান সংশোধনের মতো জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলকে আলোচনার টেবিলে আসার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা গঠনমূলক আলোচনা না করে সংসদ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ওয়াকআউট করেছে। অথচ জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সাংবিধানিক সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন। রাজনৈতিক মতভেদ বা প্রতিযোগিতা থাকবেই, কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে সবাইকে অবশ্যই ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদমূলক ও সস্তা বক্তব্য কেবল পতিত স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথই প্রশস্ত করবে। আমরা আর কখনো চাই না গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষকে রাজপথে রক্ত দিতে হোক।”

বিতর্কিত গণভোটের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক বিষয়ে সংশোধন আনা হলে গণভোটের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তবে সম্প্রতি দেশে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা কোনো সাংবিধানিক গণভোট ছিল না। সেটি কেবল প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।” এ ছাড়া গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর আইন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সভাপতিত্বে এবং দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222