167
নিজস্ব প্রতিবেদক >>>
আইনি ভিত্তির মাধ্যমে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন না হলে দেশে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের আমির ড. মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী।
আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে নাগরিক মঞ্চ আয়োজিত ‘৭২–এর সংবিধান, রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুকী বলেন, “১৯৭২ সালের সংবিধান ছিল আওয়ামী লীগের একদলীয় সংবিধান। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার’ উল্লেখ থাকলেও তৎকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়গুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চিন্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে এসব ধারার কারণে নাস্তিক ও ইসলামবিরোধী একটি শ্রেণি তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “২৪ জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর তৈরি হওয়া জুলাই সনদ একটি সমঝোতার পথ খুলে দিয়েছে। তবে এই সনদ আইনি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বহু ইসলামপন্থী ও বিপ্লবীকে হয়তো কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে।”
ড. ফারুকী সরকারের সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ড. ইউনুসের সরকার কিছু ভালো কাজ করলেও পশ্চিমাদের নীলনকশায় মাঝে মাঝে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা এবং ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাচ-গানের শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নতুন প্রজন্মকে ইসলামবিরোধী চিন্তায় ঠেলে দিতে পারে। অবিলম্বে এসব সিদ্ধান্ত বাতিল করে বাধ্যতামূলকভাবে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।”
গোলটেবিল বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। সভাপতিত্ব করেন নাগরিক মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী আহসানুল্লাহ শামীম এবং সঞ্চালনা করেন হুমায়ূন কবীর।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে মতামত দেন।
এনএ/