হলের খাবারের নিম্নমান নিয়ে মন্তব্য করায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় টানা তৃতীয় দিনেও উত্তাল রয়েছে ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত দুই নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি একাডেমিক ভবন ‘ডি’ এক্সটেনশন প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে শিক্ষার্থীদের নানা প্রতিবাদী স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। ‘খাইরুলের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও এক হও’, ‘জাস্টিস ফর খাইরুল’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এবং ‘সন্ত্রাসীর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’-এর মতো স্লোগানে মুখরিত হয় চারপাশ।
সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান। শিক্ষার্থীরা তাকে জানান, গতকাল রাত থেকেই প্রধান অভিযুক্ত তারেক রহমানের বিভাগ থেকে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহানুভূতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট দিচ্ছেন অভিযুক্ত। শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট দাবি, এসব কৌশল যেন কোনোভাবেই তদন্ত কমিটিকে প্রভাবিত করতে না পারে এবং মারধরের এই ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পূর্ণ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটি পুরোদমে কাজ করছে এবং আজকেই প্রতিবেদন জমা দেবে। আগামীকালই সিন্ডিকেট সভা ডেকে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারো কোনো বিবৃতি বা অপচেষ্টায় তদন্ত কাজ প্রভাবিত হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন। তবে ঘটনার তদন্তের কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা রিসিভ হয়নি।
অন্যদিকে, ভোর আনুমানিক ৪টায় অভিযুক্ত তারেক রহমানের ব্যাচের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হলে তার শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বিষয়টি মানবিক ও সহানুভূতির দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
টিএইচএ/
