আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈদেশিক নীতির অংশ হিসেবে কোনো দেশের সাথেই স্থায়ী উত্তেজনা বজায় রাখতে চায় না আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাত সরকার। বিশেষ করে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে চলমান দূরত্ব কমিয়ে স্বাভাবিক ও সুসম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাবুলের আগ্রহের কথা স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামিক আমিরাতের প্রধান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, আফগানিস্তান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। পাকিস্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূচনা কাবুলের পক্ষ থেকে হয়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে টানা বৈরিতা বজায় থাকা উভয় দেশের জন্যই চরম ক্ষতিকর।
বিগত দিনের পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, গত বছরের শুরুতে পাকিস্তান সীমান্ত পারাপারের পথগুলো বন্ধ করে দেয় এবং কিছু নীতি গ্রহণ করে যা দুটি প্রতিবেশী দেশের জন্য মোটেও মানানসই ছিল না। এর ফলে বাধ্য হয়ে আফগানিস্তানকে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হয়েছিল। তবে তারা নিজেরা কোনো সংঘাত শুরু করেননি। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য খাত যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সাথে যুক্ত, সেই মানবিক বিষয়ে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি আফগানিস্তান কখনোই কামনা করে না।
এদিকে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের নিজস্ব নীতি এবং অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা নিয়ে খোদ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেই সমালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তাদের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থাকে ‘সেকেলে ও কার্যকারিতাহীন’ বলে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের সাথে আংশিক সহমত পোষণ করেছেন। তবে সংস্কারের সঠিক জায়গা কোনো ব্যবসায়ী ফোরাম নয়, বরং সংসদ ও মন্ত্রিসভা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামগ্রিক বিষয়ে সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও ইতিবাচক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন। সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি জানান, পাকিস্তান সরকারের উচিত ব্যর্থ বৈদেশিক বা অভ্যন্তরীণ নীতি চাপিয়ে না দিয়ে নিজেদের দেশকে স্থিতিশীল করায় মনযোগ দেওয়া। অপরদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আকরাম আরিফি বলেন, দুই দেশের সাধারণ জনগণ কোনো সংঘাত চায় না। সরকারি নেতারা যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেন, তবে বলপ্রয়োগের পথ ছেড়ে আলোচনার মাধ্যমে অবিলম্বে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
টিএইচএ/
