চিফ রিপোর্টার:: হবিগঞ্জের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সিলেটে হামলার মুখে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর আড়াইটার পর সিলেটের গোলাপগঞ্জ এবং পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের তীব্র ক্ষোভ ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
‘তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চান?’ — সারজিস আলম
হামলার পরপরই এনসিপি নেতা সারজিস আলম তাঁর ফেসবুকে জানান, গোলাপগঞ্জ ও পাঁচ মাইল বাজার—দুই জায়গায় পর পর রক্তাক্ত হামলা চালানো হয়েছে। প্রথম পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
পরবর্তী পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘২য় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চান?’
‘মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হামলা, পুলিশ ছিল নিষ্ক্রিয়’ — ডা. মাহমুদা আলম মিতু
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু ফেসবুক পোস্টে হামলার পেছনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে লেখেন, “শহীদ পরিবারের সঙ্গে প্রোগ্রাম করে ফেরার পথে সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবারও ভয়াবহ হামলা করলো বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়িতে আমি, সারজিস এবং অন্যান্য কয়েকজন ছিলাম। এরা আসলে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করছে।” গাড়ির কাচ ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমাদের গাড়ির ডান পাশের ও পেছনের গ্লাসগুলো গুঁড়ো গুঁড়ো করে ফেলেছে। পুলিশ নির্বিকার হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তারেক রহমানের কাছে জবাব চাওয়া যাবে না, তাতে আবার নাকি বেয়াদবি হবে!’
‘সন্ত্রাসের পথে হাঁটলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে জনগণ’ — নাহিদ ইসলাম
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক বার্তায় সতর্ক করে লেখেন, “হবিগঞ্জ থেকে গোলাপগঞ্জে সরকারের সন্ত্রাসী চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। সরকার যদি সন্ত্রাসের পথে হাঁটে, জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে। আমরা বিচার ও সংস্কারের দাবি থেকে এক চুলও সরে যাব না। আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।”
‘বিজিবির উপস্থিতিতে এ হামলা কীভাবে সম্ভব?’ — নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির সদস্য সচিব নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে সিলেটে দুই দফা হামলা—এটাই কি আইনের শাসন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা কীভাবে হয়? এত নিরাপত্তার পরও এই হামলার দায় কে নেবে?”
তিনি কুড়িগ্রামে ছাত্রশক্তির আহ্বায়কের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “সংবিধানের কোন ধারার ভিত্তিতে এ ধরনের হামলা ও ভাঙচুরের সুযোগ তৈরি হচ্ছে?” রাজনৈতিক মতপার্থক্য কোনো সহিংসতার মাধ্যমে নয়, বরং গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধানের দাবি জানান তিনি।
হামলার সময় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এনসিপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সিলেটের এই ঘটনায় পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
