বিশেষ প্রতিবেদক:: ভারী বৃষ্টি, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা এবং নানামুখী বাধার অভিযোগের মধ্যেই সিলেটে রাতভর অনুষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’য় সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিলেট জেলা, কানাইঘাট এবং মধ্যরাতে ওসমানীনগর উপজেলায় আয়োজিত এনসিপির এই পদযাত্রা হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক স্লোগানে মুখরিত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
পদযাত্রা শেষে এনসিপির শীর্ষ নেতারা বৈরী আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য সিলেটবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারী বৃষ্টি, দীর্ঘ চার ঘণ্টার অপেক্ষা এবং হুমকি-বাধা উপেক্ষা করে সিলেটের পদযাত্রায় মানুষের ঢল নেমেছিল। সিলেটবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি মানুষের এই বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন।
কর্মসূচি নিয়ে এনসিপির সদস্য সচিব নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী পবিত্র কোরআনের সূরা আয-যুমারের ৫৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে লেখেন, ‘আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হয়ো না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করে সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সিলেটের মানুষ যে ভালোবাসা ও প্রতিরোধ দেখিয়েছেন, তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। ‘বাধা দিলে বাঁধবে লড়াই, সেই লড়াইয়ে জিততে হবে’—মন্তব্য করে তিনি বলেন, এত বাধার পরও মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণের কাছে পৌঁছানোর পথ আটকে রাখা যায় না।
সিলেটের কর্মসূচির দিনেই হবিগঞ্জের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এনসিপির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার পর সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফায় এনসিপির গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায়। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সারজিস আলম অভিযোগ করে জানান, বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাঁদের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। দ্বিতীয় দফা হামলার পর তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চান?’
হামলার অভিজ্ঞতা জানিয়ে ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, শহীদ পরিবারের সঙ্গে কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়। এ সময় পুলিশ নির্বিকার দাঁড়িয়ে ছিল দাবি করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার যদি সন্ত্রাসের পথে হাঁটে, তবে জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে। আমরা বিচার ও সংস্কারের দাবি থেকে এক চুলও সরে যাব না।’
অন্যদিকে, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পরও এমন হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি স্পষ্ট জানান, এনসিপি রাজনৈতিক সহিংসতার বদলে একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়, যেখানে মতপার্থক্য রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে।
