বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আয়োজিত ইসলামি বইমেলায় লিটলম্যাগ কর্নারের জন্য স্টল বরাদ্দ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে লেখক, পাঠক ও লিটলম্যাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মেলায় দ্রুত লিটলম্যাগ কর্নার চালুর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম।
ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা মেলা কর্তৃপক্ষ ও লিটলম্যাগ আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। গত বছর প্রকাশকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি এবং অংশগ্রহণসংক্রান্ত নিয়মকানুন নিয়ে অস্পষ্টতার কারণেই মূলত এই জটিলতার তৈরি হয়েছে।
মেলার দায়িত্বশীল ও রাহনুমা প্রকাশনীর প্রকাশক মাহমুদুল ইসলাম তুষার জানান, ৭ সেপ্টেম্বর মেলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হবে এবং লিটলম্যাগ কর্নার রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
অন্যদিকে লিটলম্যাগ আন্দোলনের দায়িত্বশীলরা জানান, তারা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের লিখিত সুপারিশ সংগ্রহ করেছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম তরুণ লেখক ও লিটলম্যাগকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে—মেলায় এমন কোনো পরিবেশ তৈরি করা যাবে না, যা বইমেলার সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের পরিপন্থী কিংবা প্রকাশকদের স্বাভাবিক বই বিক্রিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। নিজেদের দাবি ও প্রত্যাশা অবশ্যই থাকবে; তবে তা সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই উপস্থাপন করতে হবে।
দিনশেষে লেখক ও প্রকাশক একে অপরের সারথি। লেখক ছাড়া প্রকাশকের পথচলা যেমন কঠিন, তেমনি প্রকাশকের সহযোগিতা ছাড়া লেখকের সৃষ্টিশীলতাও বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছানো কঠিন। তাই সাহিত্য ও প্রকাশনার বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম আশা করে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক উদ্যোগে বিষয়টির দ্রুত ও সুন্দর সমাধান হবে এবং ইসলামি বইমেলায় যথাযথ মর্যাদায় লিটলম্যাগ কর্নার রাখার ব্যবস্থা করা হবে।
