সহপাঠীকে ধর্ষণের হুমকি ও নারীদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
বুধবার শ্রীশান্ত রায়কে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চকবাজার থানার উপপরিদর্শক শাহজাহান সিরাজ তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এই মামলায় সব কয়টি ধারা জামিনযোগ্য। সেক্ষেত্রে তিনি এই মামলায় জামিন পেতে পারেন।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, জামিন যোগ্য ধারা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনেক ক্ষেত্রে জামিন দেয়া যায় না। তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হোক।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শিক্ষার্থীর ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) মধ্যরাতে উত্তাল হয়ে উঠে বুয়েট ক্যাম্পাস। বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়কে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। রাত ১১টা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেন কয়েকশ শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েট প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে এসে ঘোষণা দেন, শ্রীশান্ত রায়কে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতেও জানানো হয়, শ্রীশান্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এক মুসলিম ছাত্রীকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ধর্ষণ এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে বিষয়টি নিয়ে গর্ব করেন শ্রীশান্ত। এ ছাড়া তিনি বোরকা, হিজাব ও নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। এসব ঘটনার স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুয়েট ক্যাম্পাসে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুয়েটের আহসান উল্লাহ হলে অবস্থান করে ছদ্মনাম ‘উইকলি সার্ভিস ৯২৩’ (ইংরেজিতে) আইডি ব্যবহার করে মুসলিম নারী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে চলতি বছরের ৮ জুন থেকে ৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন লেখালিখে করে। সেখানে তার মন্তব্যসহ আরো অনেক অশ্লীল এবং কুরুচিপূর্ণ, ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য পোস্ট করেন। এ আসামি ছদ্মনাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন যাবৎ মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করে ধর্ষণ উপভোগের কথা, ইসলাম ধর্ম বিষয়ে অশ্লীল এবং কুরুচিপূর্ণ বিভিন্ন আপত্তিকর পোস্ট করে আসছে।
দীর্ঘদিন চেষ্টা করে ছদ্মনামে ব্যবহৃত আইডির প্রকৃত পরিচয়ধারী ব্যক্তি আসামি শ্রীশান্ত রায়কে শনাক্ত করা হয়। আসামির মুসলিম নারী সংক্রান্ত অশ্লীল মন্তব্য এবং ধর্মীয় ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য, বুয়েটের শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে।
ওই ঘটনায় বুধবার চকবাজার থানায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিরাপত্তা কর্মী মো. আফগান হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এআইএল/
