ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা নিয়ে একদিন আগেই নিরাপত্তা হুঁশিয়ারি জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই দেশটিতে ফ্লাইট পরিচালনাকারী একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স আকস্মিকভাবে তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) টিআরটি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে জানায়, পরিস্থিতি ঘিরে নতুন ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিরও ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪ ও সিমন বলিভার মাইকেটিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার কারাকাস রুটের ফ্লাইট বাতিল করেছে ব্রাজিলের গোল, কলম্বিয়ার অ্যাভিয়াঙ্কা, চিলির লাতাম, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ক্যারিবিয়ান এয়ারলাইনস এবং ট্যাপ এয়ার পর্তুগাল।
কলম্বিয়ার বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা অ্যারোনটিকা সিভিল এক বিবৃতিতে জানায়, মাইকেটিয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় উড়োজাহাজ চলাচলে “সম্ভাব্য ঝুঁকি” তৈরি হয়েছে।
ট্যাপ এয়ার পর্তুগাল জানিয়েছে, শনিবার ও আসন্ন মঙ্গলবারের ফ্লাইট তারা বাতিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটি রয়টার্সকে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নে দেখা গেছে; ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। একইভাবে স্পেনের আইবেরিয়া সোমবার থেকে কারাকাস রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করছে। তবে শনিবার কারাকাস–মাদ্রিদ ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে। আইবেরিয়ার মুখপাত্র জানান, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে কোপা এয়ারলাইন্স ও উইঙ্গো শনিবার নির্ধারিত ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবেই পরিচালনা করেছে।
মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভেনেজুয়েলা ও আশপাশের আকাশপথে “নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি ও সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায়” যে কোনো উচ্চতায় উড়োজাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
গত কয়েক মাসে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী, অন্তত আটটি যুদ্ধজাহাজ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান।
রয়টার্সকে চারজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা–সংশ্লিষ্ট একটি “অপারেশনের” নতুন পর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মধ্যে দুজনের দাবি, প্রথম ধাপে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে গোপন অভিযান শুরু হতে পারে।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মার্কিন ভূখণ্ডে মাদক প্রবেশ বন্ধ করতে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করতে প্রস্তুত।” আরও দুই কর্মকর্তা জানান, বিবেচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টাও রয়েছে।
পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আকাশপথে আরও বিধিনিষেধ আসতে পারে বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
টিএইচএ/
