কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে স্ত্রীর দাফনের জন্য কবর খনন করতে গিয়ে প্রায় ২৪ বছর আগে মারা যাওয়া স্বামী রমজান আলীর মরদেহ অক্ষত অবস্থায় দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। শনিবার উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অলৌকিক এই খবরের পর দূর-দূরান্ত থেকে শত শত কৌতূহলী মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রমজান আলীর স্ত্রী বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। শনিবার সকালে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বামীর কবরের পাশেই স্ত্রীর কবর খননের কাজ শুরু করেন স্থানীয় গোরখোদকরা। খনন কাজ চলাকালে একপর্যায়ে তারা দেখতে পান ২৪ বছর পূর্বে দাফন করা রমজান আলীর মরদেহ ও তার কাফনের কাপড় প্রায় অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উলুপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় দুই দশক আগে মারা যাওয়া রমজান আলী জীবদ্দশায় একজন অত্যন্ত সৎ, ধার্মিক ও পরহেজগার ব্যক্তি হিসেবে সর্বজনবিদিত ছিলেন। তিনি হাটবাজারে চাল-আটার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করতেন। তার নৈতিকতা ও সরল জীবনযাপন এলাকার মানুষের কাছে প্রশংসনীয় ছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উলুপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে কবরের ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। কাফনে মোড়ানো মরদেহটি আগের মতোই অক্ষত দেখতে পেয়ে তিনি মরদেহটি যথাস্থানে অক্ষত রেখেই পাশে সতর্কতার সাথে স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে বিষয়টি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রেজা মোহাম্মদ সারওয়ার আকবর জানান, মাটির নিচে মরদেহের পচন প্রক্রিয়া অনেকাংশেই পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, বাতাসের উপস্থিতি, মাটির গুণাগুণ এবং পচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার সক্রিয়তার ওপর নির্ভর করে। বিশেষ ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক কারণে অনেক সময় মরদেহ দীর্ঘকাল অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত বা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া এর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
টিএইচএ/
