জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “৭২ সালের মুজিববাদী সংবিধান বাতিল করে নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচালনায় নতুন একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান রচনা করতে হবে।”
রোববার দুপুরে রাঙ্গামাটির বনরুপায় এক পথসভায় তিনি বলেন, “পুরোনো সংবিধানে দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বাঙালি জাতীয়তাবাদের নামে অবাঙালীদের সঙ্গে বিভেদ তৈরি করা হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামের সঙ্গে দ্বিচারিতা করা হয়েছে।”
এর আগে তিনি কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া, ঘাগড়া ও রাঙ্গুনিয়ার রানীরহাট বাজার এলাকায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এমন একটি সংবিধান চাই, যেখানে সব জাতিগোষ্ঠীর মর্যাদা থাকবে। পাহাড় ও সমতলের মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। বিভেদের দেয়াল ভেঙে সবাইকে নিয়ে নতুন একটি রাষ্ট্রগঠনের লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ চুক্তিতে পৌঁছাতে চাই।”

রোববার রাঙামাটিতে জুলাই পদযাত্রায় এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
তিনি বলেন, “এনসিপি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চায় যেখানে বহু জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতি মিলেমিশে থাকবে। সেখানে নাগরিক অধিকার ও মর্যাদায় কোনো বৈষম্য থাকবে না।”
পথসভা উপলক্ষে এনসিপি নেতারা রাঙ্গামাটি শহরে প্রবেশের পর জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বর থেকে পদযাত্রা শুরু করেন, যা শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে বনরুপা সিএনজি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এই পদযাত্রা ও সভাকে ঘিরে রাঙ্গামাটি জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বারবার বিভাজন সৃষ্টি করে এক পক্ষ সুবিধা নিতে চায়। এই সুবিধাবাদী শক্তিকে আমরা আর সুযোগ দেব না। কোনো বিভেদ থাকলে আমরা নিজেরা বসে সমাধান করব।”
তিনি আরও বলেন, “এনসিপি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতায় বিশ্বাসী। সকল পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
পথসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপির রাঙ্গামাটি জেলা প্রধান সমন্বয়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা। বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, ডা. তাসনীম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “মুজিববাদী সংবিধানে জাতিসত্তার স্বীকৃতি না দিয়ে সবাইকে জোর করে বাঙালি করা হয়েছিল। আমরা সেই বৈষম্য দূর করতে চাই।”
সারজিস আলম বলেন, “অপরাধীদের শাস্তি হিসেবে পার্বত্যাঞ্চলে পোস্টিং দেওয়া যায় না। দুর্নীতিবাজদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এখানে চাঁদাবাজ, ধান্ধাবাজদের কোনো জায়গা হবে না।”
তিনি জানান, “আমাদের কোনো বক্তব্যে ভুলভ্রান্তি থাকলে আমরা সংশোধন করব। এখানকার মানুষের অধিকার ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
হাআমা/
