‘জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন’ প্রতিষ্ঠার পেছনে মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তা ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। তিনি বলেন, ‘কতিপয় আলেম কি সোল্ড আউট হয়ে গেলেন? জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনকে কি বৈধতা দিয়েই দিল?’
জুলাই বিপ্লবের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশনের আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠান’-এ তিনি আজ বুধবার (৩০ জুলাই) এক ফেসবকু পোস্টে এসব মন্তব্য করেন।
ড. আব্বাসী বলেন, “জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হোক—এটা দেশের কোনো ঈমানদার, মানবতাবাদী, দেশপ্রেমিক মানুষই চায়নি। প্রকাশ্যে বিরোধিতা না করলেও বিএনপিসহ অনেক রাজনীতিবিদ সরব বা নীরবভাবে এর বিরোধিতা করেছেন।”
তিনি বলেন, ‘যুবক আলেম-ওলামা ও তরুণ ইসলামিক স্কলারদের সমন্বিত প্রয়াসে ঢাকায় এই কমিশনের বিপক্ষে জনমত গঠনের একটি সফল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, একটি ইসলামী সংগঠনের কিছু নেতা এবং ইসলামী রাজনীতির ব্যানারে থাকা কিছু নেতৃবৃন্দ পশ্চিমা শক্তির কাছে নিজেদের সোপর্দ করে দিয়েছেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রমকে রাজনৈতিক বৈধতা দিতে মঙ্গলবারের স্মরণ অনুষ্ঠানে কিছু ইসলামী নেতা ও বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। “আমার মনে হয়, এটি একটি চতুর রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া কিছুই নয়,” মন্তব্য করেন আব্বাসী।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন পেছানোর নামে পিআর পদ্ধতি, সংস্কার, বিচারসহ নানা ধাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চক্র বাংলাদেশে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের সময় বাড়িয়ে নিচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশকে যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রে পরিণত করতেও তারা প্রস্তুত।’
ড. আব্বাসী আরও বলেন, ‘আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা আলেমের ইজারাভুক্ত নয়। মার্কিন আগ্রাসন বিরোধী এ আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অগ্নুৎপাতের মতো ছড়িয়ে পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতীয় আধিপত্য রুখে দিতে বাংলাদেশের জনগণ অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। ভারত কখনো সামরিক হস্তক্ষেপ করবে, এমনটা কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যে দেশগুলোতে প্রবেশ করেছে, তাদের অনেককে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।’
শেষে ড. আব্বাসী বলেন, ‘এই মুহূর্তে দরকার ভারতীয় আধিপত্য রোধ এবং মার্কিন এজেন্ডার বিরুদ্ধে ঈমানদার জনগণের ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও অহিংস প্রতিরোধ।’
হাআমা/
