মিসর ও সুদান ঘোষণা দিয়েছে যে ইথিওপিয়ার নীলনদে নির্মিত বাঁধ (গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম) দুই দেশের জন্য ‘হুমকি’ স্বরূপ।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) টিআরটি গ্লোবাল সূত্রে জানা গেছে, কায়রোতে বুধবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আব্দুল আতি, পানি সম্পদ মন্ত্রী হানি সুইলাম এবং সুদানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমর সিদ্দিকের নেতৃত্বে বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইথিওপিয়ার এ বাঁধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটি পূর্ব নীল অববাহিকার স্থিতিশীলতার জন্যও একটি স্থায়ী হুমকি।
সুদানি সংবাদমাধ্যম জানায়, উভয় দেশ ইথিওপিয়াকে নীতি পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে এই বিবৃতি আসে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের মন্তব্যের পরপরই, যেখানে তিনি বলেন, বাঁধ সম্পূর্ণ হলে মিসর ও সুদানের জন্য সারা বছর পানির স্থিতিশীল প্রবাহ নিশ্চিত করবে। বন্যা রোধ করবে এবং কোনো ক্ষতি ডেকে আনবে না।
বাঁধটি নিয়ে মিসর, সুদান ও ইথিওপিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য চলছে। ২০১১ সালে নির্মাণ শুরু হলেও কায়রো ও খার্তুম এর পানি সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিষয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় আইনি চুক্তি দাবি করে আসছে। কিন্তু ইথিওপিয়া বলছে, এমন কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই এবং তাদের উদ্দেশ্য কারো ক্ষতি করা নয়।
এই মতপার্থক্যের কারণে তিন বছর আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দেয়। যদিও ২০২৩ সালে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছিল, ২০২৪ সালে তা আবার স্থবির হয়ে পড়ে।
৬ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ নীলনদ ১১টি দেশ অতিক্রম করেছে—বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, কঙ্গো, কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান ও মিসর।
মিসরের পানির ৯০ শতাংশই নীলনদের ওপর নির্ভরশীল। দেশটি বর্তমানে তীব্র পানিসংকটে রয়েছে, যার বড় কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। সুদানও তুলনামূলকভাবে কম মাত্রায় পানিসংকটে ভুগছে, তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে ইথিওপিয়ার দাবি, শক্তি উৎপাদনে স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তাদের এ বাঁধ অপরিহার্য।
সূত্র: টিআরটি গ্লোবাল
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
