নবীজির শিক্ষা ও আদর্শ ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান

by hsnalmahmud@gmail.com

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, যাঁর আগমন শুধু আরব উপদ্বীপেই নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য ছিল এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা। তিনি আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ নবী ও রাসূল, যাঁর জীবন ও শিক্ষা বিশ্বমানবতার জন্য চিরন্তন দিকনির্দেশনা। ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ হিসেবে তিনি শান্তি, ন্যায়, সাম্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া, সহমর্মিতা এবং অসীম ধৈর্য মানবসমাজের জন্য আজও অনুসরণীয়। পৃথিবীর সমস্ত কুসংস্কার, অন্যায়-অবিচার ও বৈষম্যের অন্ধকার দূর করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। তাই হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ প্রতিটি যুগ, প্রতিটি প্রজন্ম এবং প্রতিটি মানুষের জন্য সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক।

শনিবার ১২ ই রবিউল আওয়াল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের জন্ম ও মৃত্যুর দিন। এ দিন উপলক্ষে বাংলাদেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় সাধারণ ছুটি থাকে। মহানবী সা. এর আদর্শের অনুসরণ সবার জন্য অনুকরণীয়- এমন বিশ্বাস সারা বছর আলেমওলামা ও ইসলামি রাজনীতিবদগণ ছড়িয়ে থাকেন। নবীজির রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতিকে বিশ্বের জন্য মডেল বলে তারা প্রচারও করে থাকেন। কিন্তু মহানবী সা. এর এমন আদর্শ ও মডেলের কথা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদের ব্যক্তিদের মুখে খুব কমই শোনা যায়।

বিজ্ঞাপন
banner

এদিকে ১২ই রবিউল আওয়াল উপলক্ষে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদগণ বাণী দিয়েছেন এ উপলক্ষে। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এ উপলক্ষে। দেশের প্রধান উপদেষ্টা, রাষ্ট্রপতি ও ইসলামি ধারার বাইরে শীর্ষ রাজনীতিক দলের প্রধানদের দেয়া বাণী তুলে ধরেছেন ৩৬ নিউজের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নবী (সা.) প্রসঙ্গে এক বাণীতে বলেছেন, ‘মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ প্রতিটি যুগ ও প্রজন্মের জন্য দিশারি হয়ে আছে এবং তা অনুসরণেই নিহিত রয়েছে বিশ্বমানবতার শান্তি, কল্যাণ ও মুক্তি।’

তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.) ছিলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন—সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত। আল্লাহ তাঁকে মানবজাতির হেদায়েত ও মুক্তির জন্য প্রেরণ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য, অনুপম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মহৎ গুণের জন্য কোরআনে মহানবীকে ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’ বা সুন্দরতম আদর্শ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাঁর শিক্ষা প্রতিটি প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও শান্তির পথে পরিচালিত করছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নবীজির অনুপম জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণই আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে। তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য আরও সুসংহত হওয়ার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ইউনূস দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সবার মাঝে বয়ে আনুক শান্তি ও সমৃদ্ধি। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ লালন ও অনুসরণের মধ্য দিয়েই আমাদের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ নিশ্চিত হবে।’

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশ ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

এক বাণীতে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইহকাল ও পরকালীন কল্যাণ নিশ্চিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতিটি কথা, কর্ম ও জীবনাদর্শ সকল মুসলমানের জন্য অবশ্য অনুসরণীয়।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে আমি দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। আজ সেই মহিমান্বিত দিন, যেদিন আল্লাহর সর্বশেষ রসুল, হযরত মুহাম্মদ (সা.) দুনিয়ায় আগমন করেন।

তিনি বলেন, তাঁর আগমন মানবজাতির জন্য বয়ে আনে রহমত, শান্তি ও মুক্তির বার্তা। তৎকালীন আরব সমাজের অন্যায়, অসত্য ও অন্ধকার দূর করে মানুষকে তিনি আলোর পথ দেখান।

সাহাবুদ্দিন বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন নাজিল করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর জগতে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন। নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে হযরত মুহাম্মদ (সা.) অসীম ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সমগ্র পৃথিবীতে পবিত্র কুরআনের মর্মবাণী ছড়িয়ে দেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহানবী (সা.) একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সকলের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং মুসলমানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে উম্মতদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইহকাল ও পরকালীন কল্যাণ নিশ্চিতে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতিটি কথা, কর্ম ও জীবনাদর্শ সকল মুসলমানের জন্য অবশ্য অনুসরণীয়।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর দেখানো পথেই মানুষ ন্যায় ও সৎ পথে চলার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত লাভ করে বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী, এই দিনটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর দুনিয়াতে আগমনের আনন্দ এবং তার জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। যিনি মানবজাতিকে পরিশোধন করেন এবং তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআন ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা মানব বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন দিবস মর্যাদাবান, গুরুত্ববহ এবং আনন্দের। আল্লাহর প্রতি ঈমান ও মানবতার পথপ্রদর্শনকারী মহানবীর ধরাপৃষ্ঠে আবির্ভাবের দিন আজ। তিনি সারা বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ, আমাদের জন্য আল্লাহ’র পক্ষ থেকে সব থেকে বড় উপহার বা এহসান। আল্লাহ তা’আলা তাকে দিয়েছেন মহিমান্বিত মর্যাদা। পৃথিবীতে মানুষ ইহজগৎ ও পরজগতের মুক্তির সন্ধান পায় এই দিনে।

তিনি বলেন, হযরত মুহম্মদ (সা.) এর আবির্ভাব ছিল একটি আলোকিত বিস্ময়। মানবজাতি তার আগমনে নিজেদের কল্যাণ ও শান্তির নিশ্চয়তা লাভসহ জগতের সমস্ত অন্যায়-অবিচার, কুসংস্কার, নিপীড়ন-নির্যাতন এবং বৈষম্যের ঘোর অন্ধকার যুগ থেকে নিষ্কৃতি লাভের সন্ধান পায়। সেজন্যই তিনি হয়েছেন মানবতার মুক্তির দিশারী।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ ন্যায় ও সৎ পথে চলার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত লাভ করে রাসুলের (সা.) দেখানো পথে। নিজ যোগ্যতা, সততা, মহানুভবতা, সহনশীলতা, কঠোর পরিশ্রম, আত্মপ্রত্যয়, অসীম সাহস, ধৈর্য, সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও অপরিসীম দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করে তিনি তার ওপর অবতীর্ণ সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ আল কোরআনের বাণী তথা তওহিদ প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করেন। অন্ধকারের যুগ তথা আইয়ামে জাহেলিয়াতের আমলে আইন, বিচার ও প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যাভিচার-অনাচারের অরাজকতা বিরাজমান ছিল। এই সময় যার আগমন হয়েছিল তিনি হলেন রহমাতুল্লিল আলামিন। তিনি আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগ দূরীভূত করে ইসলাম কায়েমের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সমাজে অবহেলিত, নির্যাতিত, বঞ্চিত ও দুঃখী মানুষের সেবা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, পরমতসহিষ্ণুতা, দয়া ও ক্ষমাগুণ, শিশুদের প্রতি দায়িত্ব এবং নারী জাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অতুলনীয়। তাই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে স্বীকৃত।

তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট প্রার্থনা করি- মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা, আদর্শ ও ত্যাগের মহিমা আমরা সবাই যেন নিজেদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারি। আমি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম ভাইবোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শেষ নবী সাইয়েদুল মুরছালিন হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জন্য অসংখ্য দরুদ ও তার প্রতি সালাম জানাই।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিশ্বমানবের নিকট এক অসাধারণ আলোকবর্তিকা, শান্তি-সংগ্রাম-সম্প্রীতির আধার, চরম সত্যবাদী ও পরম বিশ্বস্ত হযরত মোহাম্মদ (স.)। তাঁর কালজয়ী মূল্যবোধ, মানবতা, সহমর্মিতা, উদারতা ও মানুষের প্রতি সহানুভূতি মানবজাতির নিকট এক পরম শিক্ষা হয়ে থাকবে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘কৈশোরকাল থেকেই তিনি মিথ্যার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা, যিনি কোনোদিন আমানতের খেয়ানত করেননি, অন্যের উপকার করা যিনি পরম কর্তব্য বলে মনে করতেন, বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন মহানবী (স.)। পরম সত্যের সন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত রেখে তিনি ৪০ বছর বয়সে নবুয়াত লাভ করেন। সীমাহীন নির্যাতন সহ্য করেও কঠোর পরিশ্রমী প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তিনি তাওহিদের বাণী সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কোরআন মহানবীর (স.) উপর অবতীর্ণ করেন, যা মানব জাতির পথপ্রদর্শক। এতে ইহলৌকিক ও পরলৌকিক মুক্তির যাবতীয় নির্দেশাবলি রয়েছে যার অনুশীলন মানুষকে পরিপূর্ণ ও মর্যাদাশীল করে তোলে। তাঁর জীবন ও কর্ম অনুসরণের মাধ্যমে মুসলিমরা শৃঙ্খলিত এবং মানুষের মুক্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠাসহ নিজেদের জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করার অনুপ্রেরণা পায়।’

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘আমি শেষ নবী সাইয়েদুল মুরসালিন হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর প্রতি সালাম জানাই।’

এদিকে মানবকল্যাণের পথপ্রদর্শক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে মুসলিম সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি

শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

মুখ্যমন্ত্রী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শকে মানবকল্যাণ, শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এই মহিমান্বিত দিনে সবার জীবনে শান্তি, কল্যাণ ও সম্প্রীতি বয়ে আনার আহ্বান জানান।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222