২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে তামিম ইকবাল। ৩৬ বছর বয়সী এই পোষ্টার বয় এখন চালিয়ে যাচ্ছেন শুধু ঘরোয়া ক্রিকেট। বিপিএল এবং ডিপিএলে এখনও তার কদর অনেক। তার ক্যাপ্টেন্সিতে বিপিএলে ফরচুন বরিশাল পেয়েছে শিরোপা। ওল্ড ডিওএইচএস-এর কাউন্সিলর হয়ে এখন তামিম বিসিবির আসন্ন নির্বাচনী ময়দানে রাত-দিন কাটাচ্ছেন প্রচারণায়। অলিখিত ভাবে একটি প্যানেলকে দিচ্ছেন নেতৃত্ব। রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে জেলাও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক এবং ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট সংগঠকদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির আসন্ন নির্বাচনে পরিচালক পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে ক্রিকেট ছেড়ে দিবেন বলেও আগাম ঘোষণা দিয়েছেন তামিম-
‘আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। তবে সবাই জানে, যে আমি যদি বিসিবিতে নির্বাচিত হই, তাহলে আমি আর ক্রিকেট খেলব না। কিন্তু কোথাও লেখা নেই যে আমি খেলতে পারব না। নির্বাচিত হলে ক্রিকেটের সাথে সম্পর্ক থাকবে না। তারপর যেহেতু প্রশ্ন উঠেছে, তাই আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে আমি নির্বাচিত হলে, তাহলে এই দেশে ক্রিকেটের সাথে আমার কোনও সম্পৃক্ততা থাকবে না। তবে, যদি অন্য কোথাও কোনও চ্যারিটি ম্যাচ হয়, তাহলেও আমি তাতে অংশগ্রহণ করতে স্বাধীন।’
বিসিবির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন। তার ইচ্ছায় নির্বাচনী তপশিলে বার বার পরিবর্তন এসেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন-
‘ আমি যদি ভুল করে না থাকি, তাহলে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর। নির্বাচন কমিশন গঠনের পর, সকল বিষয় অবশ্যই এর মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কাউন্সিলর মনোনয়নের সময়সীমা প্রথমে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং হঠাৎ করেই বিসিবির পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা আসে যে কাউন্সিলর প্রেরণের সময়সীমা বাড়ানো হবে, প্রথমে ১৯ সেপ্টেম্বর এবং তারপর ২২ সেপ্টেম্বর। প্রথম যখন কাউন্সিলর নাম প্রেরণের তারিখ পরিবর্তন করা হয়, তখন তিন-চারজন পরিচালকের কিছুটা সম্মতি ছিল, কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন পিছিয়ে দেয়া হয়, তখন অন্য কারও সাথে পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।’
জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারদের স্বাক্ষর নিয়ে পরীক্ষিত সংগঠকরা কাউন্সিলর ফরম জমা দেয়ার পরও কেনো তাদের ফরম বাতিল করে এডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর প্রেরণের চিঠি যুবও ক্রীড়া মন্ত্রানালয়কে দিলেন বিসিবি সভাপতি, তার সমালোচনা করেছেন তামিম-
‘ জেলা প্রশাসনের স্বাক্ষর সহ কাউন্সিলর মনোনয়ন জমা দেওয়ার রেওয়াজ আছে। এরকম অনেক রিসিভিং কপি আমাদের হাতে আছে। ঠিক এমন সময় কাউন্সিলর প্রেরনে সময়সীমা বাড়ানো হয়। নির্বাচন কমিশন গঠনের পর বিসিবি সভাপতি এ ধরণের চিঠি দেন কীভাবে ? গঠণতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়ার পর বিসিবি সভাপতি এই ধরনের কোনও চিঠিতে স্বাক্ষর করতে পারবেন না। কিন্তু বাস্তবে, তিনি স্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। যদি তিনি নির্বাচন সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তাহলে তিনি কীভাবে এত বিস্তারিত নির্দেশনা দেন?’
যুবও ক্রীড়া উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ সমর্থন নিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রীক একটার পর একটা অগঠণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এমনটাই মনে করছে তামিম-
‘ বুলবুল ভাই কিছুদিন আগে বলেছেন, উপদেষ্টা চাইলে তিনি বিসিবিতে নির্বাচন করবেন। এই কথা বলে কিন্তু তিনি তার অবস্থান পরিস্কার করেছেন।’
আইসিসি সরকারের হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধী, তা বুলবুলকে মনে করিয়ে দিতে চান তামিম-
‘বিসিবির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আইসিসিতে কাজ করেছেন। এ ব্যাপারে উনি অনেক ভাল জানেন। উনি যে বিসিবির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছেন, এ ব্যাপারে একজনও দ্বিমত পোষন করবেন না।’
টিএইচএ/
