রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় সংঘটিত শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি মামলার মূল হোতা দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পারভেজ (২৭) ও কাকলী আক্তার (২৫)।
কামরাঙ্গীরচর থানা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মো. আবু সায়েম (৪৬) কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আলীনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারসহ বসবাস করেন। তিনি ভাড়াটিয়া হিসেবে মো. পারভেজ (২৭) ও তার স্ত্রী কাকলী আক্তার (২৫) কে সাবলেট হিসেবে ঘর ভাড়া দেন।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকার দিকে বাদীর স্ত্রী ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আসামিরা তাদের সহায়তাকারী অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন সহযোগীর সহায়তায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে বাদীর শিশু পুত্র আব্দুল হাদি নূরকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
তাদের ব্যবহৃত ইমু নাম্বার থেকে বাদির নাম্বারে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং আসামির নাম্বারে ৫ হাজার টাকা দিতে বললে বাদি ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় বিকাশে ৫ হাজার টাকা প্রদান করে।
পরে আসামিরা ইমু নাম্বারে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি প্রদান করতে থাকে। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদি হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এর সার্বিক নির্দেশনায়, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ), সহকারী পুলিশ কমিশনার (লালবাগ জোন) এবং কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
অভিযানিক টিমটি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত শিশুর অবস্থান শনাক্ত করে এবং মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৫:৪৫টায় মিরপুর মডেল থানাধীন হোটেল ক্লাসিক আবাসিক থেকে আসামী পারভেজ ও কাকলী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সূত্র: ডিএমপি।
এআইএল/
