স্বর্ণের টানা উত্থান শেষ হতে চলেছে বিশ্ববাজারে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) এক শতাংশের বেশি কমেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে স্পট গোল্ডের দাম ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪,০৬৩.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। সপ্তাহজুড়ে এটি ৪.৩ শতাংশের পতন, যা ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন। ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪,০৭৭.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যদিও চলতি বছর স্বর্ণের দাম এখনও রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে। বছরের শুরু থেকে দাম প্রায় ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। এর পেছনে মূল কারণ ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা। গত সোমবার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৪,০০০ ডলার অতিক্রম করে ৪,১৮১.২১ ডলারে পৌঁছায়।
সুইসকোট ব্যাংক গ্রুপের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো দে কাসা বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে স্বর্ণের দাম অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য উত্তেজনা কমতে পারে। তাই অনেকেই লাভ তুলছেন বা স্বর্ণে বিনিয়োগ কমাচ্ছেন।’
বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্য সূচক (ইনফ্লেশন) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছে, যা শুক্রবার দুপুরে প্রকাশিত হবে। সেপ্টেম্বর মাসে শক্তিশালী মূল্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত আসতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ০.২৫ শতাংশ কমাতে পারে। সাধারণত সুদের হার কমলে স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, কারণ এতে স্বর্ণে বিনিয়োগের সুযোগমূল্য কমে। ট্রাডুর সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক রাসেল শোর বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি দরপতন দেখা গেলেও স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা এখনও ঊর্ধ্বমুখী, যা শক্তিশালী মৌলিক উপাদান দ্বারা সমর্থিত।’
এআইএল/
