রাজশাহীর বাগমারায় জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হিন্দু পরিবারের কয়েক সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের স্থানীয় এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ১ সপ্তাহ আগের বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী উত্তম কুমার দাস থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি তাহেরপুর পৌরসভার জেলেপাড়ার বাসিন্দা। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মেহেদি খাঁ। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা। ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে মেহেদি খাঁকে তাহেরপুর পৌর শাখা জামায়াতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জামায়াতের উপজেলা শাখার নেতারা জানিয়েছেন, মেহেদি খাঁর দলীয় কোনো পদে নেই।
লিখিত অভিযোগে উত্তম কুমার দাস উল্লেখ করেন, ২১ অক্টোবর বেলা দেড়টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রতিপক্ষ মেহেদি খাঁর নেতৃত্বে কয়েকজন তার স্ত্রীর ওপর হামলা চালান। এ সময় তাদের মেয়ে এগিয়ে গেলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তারা বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
উত্তম কুমারের দাবি, তাদের উচ্ছেদ করে জমি দখলের জন্য প্রভাবশালী মেহেদি খাঁ এ হামলা চালিয়েছেন। এখনো ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।
এলাকাটির কয়েকজন বাসিন্দা মারধরের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীর ওপর হামলাকারী ব্যক্তি (মেহেদি খাঁ) জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, মেহেদি খাঁকে তারা তাহিরপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি হিসেবে জানেন এবং তিনি নিজেও এই পরিচয় দেন। তার বাড়ির পাশে ওই হিন্দু পরিবারটির বসবাস। জমিজমা নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
আগামীকাল শনিবার (১ নভেম্বর) উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সুরাহা করা হবে বলে জানিয়েছেন তাহেরপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক সোহায়েল রানা।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের স্থানীয় আমির আমাকে জানিয়েছেন, মেহেদি খাঁকে গত বছরের ৫ আগস্টের পর মৌখিকভাবে ওই ওয়ার্ডের সেক্রেটারি হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে তিনি নিষ্ক্রিয় থাকায় লিখিতভাবে পদ দেওয়া হয়নি।’
এআইএল/
