“বাংলাদেশে কোনো ইসলামী বিরোধী এজেন্ডা মেনে নেয়া হবে না”
—পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের দাওয়াহ সম্মেলনে বিশিষ্ট আলেমদের আহ্বান
গতকাল (৭ নভেম্বর ২৫, শুক্রবার) পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে কোর্টপাড়া ইকরা একাডেমী প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে “খ্রিস্টান মিশনারী, কাদিয়ানী, বাতিল ফিরকা ও ফিকরি ইরতিদাদ মোকাবেলার পথ ও পদ্ধতি” শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক দাওয়াহ সম্মেলন।
পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির মুফতি মুস্তাফা কামাল কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রাযযাক নদভী এবং প্রধান আলোচক ছিলেন পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের আমির ড. মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী।
দাওয়াহ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা উলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি জুনাইদ আল হাবিবী, খুলনা বিভাগীয় কওমী মাদরাসা পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি মুফতি আব্দুর রাজ্জাক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির মাওলানা আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি মুফতি শোয়াইব আহমদ কাসেমী, পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দাওয়াহ পরিচালক মাওলানা মুশাহিদ আলী চমকপুরী, পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ খুলনা জেলা আমির মাওলানা সোহরাব হুসাইন, পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ পাবনা জেলা আমির মুফতি মাহফুজুর রহমান, পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা আমির মাওলানা মোশাররফ হুসাইন, পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ খুলনা জেলা বটিয়াঘাটা থানা আমির মাওলানা আশিক ইলাহী আজাদী, বিশিষ্ট দাঈ মাওলানা তালহা ও সম্রাট সালমান ফারসি প্রমুখগণ। এছাড়া দেশবরেণ্য আলেম, দাঈ, গবেষক ও দাওয়াহ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান আলোচক ড. মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী তার বক্তৃতায় বলেন— “মানবজাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ঈমান। এটি শুধু আধ্যাত্মিক বা ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র —সবকিছুর প্রাণশক্তি হলো ঈমান। এই ঈমান ধ্বংস করার জন্য খ্রিস্টান মিশনারী, কাদিয়ানী ও বিভিন্ন বাতিল ফিরকা আমাদের সমাজে ছদ্মবেশে কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্বে ইসলাম ও মুসলিম সমাজ এক গভীর ফিকরি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটের মুখোমুখি। আধুনিক বিভিন্ন মতবাদ ও চিন্তাদর্শনের প্রভাব এবং ফিকরি ইরতিদাদ তথা চিন্তাগত ধর্মচ্যুতি ও ধর্মহীনতা—মুসলিম শিক্ষিত শ্রেণীর ঈমান ও চিন্তার জগতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজন— ইসলামী জ্ঞান, হিকমতপূর্ণ দাওয়াহ এবং প্রশিক্ষিত দাঈ সমাজের উত্থান। আর এ লক্ষ্যে প্রয়োজন ব্যাপকভিত্তিক ‘দাওয়াহ কার্যক্রম’।
তিনি আরও বলেন, “এ সম্মেলেনের মাধ্যমে আমরা চাই— খ্রিস্টান মিশনারী, কাদিয়ানী, বাতিল ফিরকা ও ফিকরি ইরতিদাদ তথা চিন্তাগত ধর্মচ্যুতি ও ধর্মহীনতা থেকে মুসলিম শিক্ষিত শ্রেণীকে সচেতন করা, তাদের চিন্তার অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি দূর করা, সাধারণ মুসলমানের ঈমান রক্ষা করা এবং অমুসলিমদের প্রতি ইসলামের দাওয়াতের গুরুত্ব তুলে ধরা।”
প্রধান অতিথি মাওলানা আব্দুর রাযযাক নদভী তার বক্তব্যে বলেন, “দাওয়াতের পথ কন্টকাকীর্ণ হলেও আমাদের হতাশ হলে চলবে না। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে মাঠে নামলে আল্লাহ তাআলা সহজ করে দিবেন। আমাদের করণীয় হলো দায়িত্ব নিয়ে কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক আকীদা, শিক্ষা ও দাওয়াত মাঠে ময়দানে সর্বস্তরে পৌছে দেয়া, তরুণ প্রজন্মকে আত্মিক ও চিন্তাগতভাবে দৃঢ় করা এবং মাঠপর্যায়ে মানবসেবামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামী দাওয়াতের চিত্র উজ্জ্বল করা।”
এমএআর/
