বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তারকা হামজা চৌধুরী চতুর্থবারের মতো দেশে ফিরেছেন। আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়েটার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক ও সমর্থকদের আগ্রহে মুখর ছিল রবির ভবন প্রাঙ্গণ। কেউ এগিয়ে এসেছেন করমর্দনে, কেউ বা সেলফিতে বন্দি করতে চেয়েছেন প্রিয় তারকাকে। তবে এত ভিড়েও বিরক্ত নন হামজা, বরং মুখে ছিল চেনা সেই মৃদু হাসি।
বাংলাদেশে এসে মানুষের ভালোবাসায় মুগ্ধ হামজা বলেন,
“আমি যে ভালোবাসা পাই, সেটা খুব যত্ন করে লালন করি। চেষ্টা করি সেই ভালোবাসা সবাইকে ফিরিয়ে দিতে। এটা বারবার এখানে ফিরে আসার ইচ্ছে জাগায়। যখনই বাংলাদেশ ছাড়ি, আমার বাচ্চারা বলে, ওরা বাংলাদেশে ফিরতে চায়। ইনশাআল্লাহ, ওরা মার্চে আবার আসবে।”
আগামী মার্চে বাংলাদেশ খেলবে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। ঠিক এক বছর আগে, ২৫ মার্চ ভারতের শিলংয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দলে অভিষেক হয়েছিল হামজার। সেই ম্যাচ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত লাল-সবুজ জার্সিতে খেলেছেন ৫ ম্যাচ, যার মধ্যে তিনটি বাছাই ও একটি প্রীতি ম্যাচ ছিল ভুটানের বিপক্ষে।
বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি ম্যাচ— ১৩ নভেম্বর প্রীতি ম্যাচে নেপাল ও ১৮ নভেম্বর বাছাইপর্বের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। দুটো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত ৮টায়। ম্যাচগুলো সামনে রেখে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছেছেন হামজা।
অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের উত্তরে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব লেস্টার সিটির অধিনায়ক বলেন,
“প্রত্যেক সন্তানই চায় বাবা-মাকে গর্বিত করতে। আমি সেই সুযোগ পেয়েছি অনেক আগেই। এখন শুধু চাই বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করতে, এই দেশের অংশ হতে এবং প্রতিনিধিত্ব করতে— বিশেষ করে আমার বাবা-মায়ের জন্য।”
সিলেটের হবিগঞ্জের বাহুবলে হামজার পৈতৃক বাড়ি। নিজের শিকড়ের প্রতি টান নিয়ে বলেন,
“আমার বাবা এই দেশেই জন্মেছেন ও বড় হয়েছেন। তাঁদের মুখে সেই হাসিটা দেখতে পাওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। প্রতিটি সন্তান চায় বাবা-মাকে গর্বিত করতে। আমি ভাগ্যবান যে আমি পুরো জাতিকেই গর্বিত করতে পারছি।”
হামজার আগমনে আবারও উচ্ছ্বসিত দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। তাঁর উপস্থিতি মাঠে যেমন অনুপ্রেরণা দেয় সতীর্থদের, তেমনি জাগিয়ে তুলেছে দীর্ঘদিনের নিস্তেজ ফুটবল সংস্কৃতি। গ্যালারির ১৮,৩০০ টিকিট মাত্র তিন মিনিটে বিক্রি হয়ে যাওয়া— সেটিই যেন প্রমাণ করে, ফুটবল আবার জেগে উঠছে হামজা চৌধুরীর হাত ধরে।
টিএইচএ/
