রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার: নীরবতার সংস্কৃতি কতদিন?

by Fatih Work

ফাতীহ মুহাম্মাদ সোলাইমান >>

সমসাময়িক রাজনীতিতে সহিংসতা ক্রমেই একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা হয়ে উঠছে। মতপ্রকাশ, সংগঠিত হওয়া কিংবা ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার কারণে ব্যক্তির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়া—এটি কোনো গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য স্বাভাবিক হতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর ওপর হামলার অভিযোগ এই বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

এই ধরনের হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়; এটি মৌলিক মানবাধিকার—বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার—এর ওপর সরাসরি আঘাত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী, রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়েরই দায়িত্ব হলো ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের কণ্ঠ রোধ করা নয়।

রাজনৈতিক সহিংসতার একটি বড় সমস্যা হলো এর স্বাভাবিকীকরণ। যখন হামলা, ভয়ভীতি বা হুমকি বারবার ঘটে এবং সেগুলোর যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহি হয় না, তখন একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ে—সহিংসতা যেন গ্রহণযোগ্য। এই সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত শুধু নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে নয়, পুরো সমাজকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।

মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো নিরপেক্ষ তদন্ত। অভিযোগ উঠলেই তা অস্বীকার বা রাজনৈতিক রঙে ঢেকে দেওয়া সমস্যার সমাধান নয়। বরং স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তই পারে সত্য উদঘাটন করতে এবং দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে। জবাবদিহি ছাড়া ন্যায়বিচার অসম্ভব, আর ন্যায়বিচার ছাড়া শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে না।

সবশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো দল বা ব্যক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দাঁড়ানো নয়; এটি মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো। শরীফ ওসমান হাদীর ওপর হামলার অভিযোগ আমাদের আবার মনে করিয়ে দেয়—ভিন্নমত রক্ষার লড়াই আসলে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে নীরবতা নয়, প্রয়োজন ন্যায়, নিরাপত্তা ও মানবিকতার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান।

লেখক: সম্পাদক, ৩৬নিউজ২৪

এআইএল/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222