নির্বাচনে আপরাজিত যোদ্ধা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

by Fatih Work

১৯৮১ সালে স্বামী ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক বাস্তবতা বেগম খালেদা জিয়াকে একেবারে নীরব পারিবারিক জীবন থেকে সরাসরি রাজনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসে। রাজনীতির সঙ্গে যার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল না, সেই গৃহবধূ খালেদা জিয়া কখনো কল্পনাও করেননি যে একদিন তাকে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে আসতে হবে।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রপন্থী রাজনীতির অন্যতম প্রধান নেতা, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম কৌশল ও আইনি জটিলতার মাধ্যমে তাকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এর আগে কোনো নির্বাচনে তিনি কখনো পরাজিত হননি।

বিজ্ঞাপন
banner

বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী সাফল্য ও গৌরবময় রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে বিবিসি বাংলা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনটি  পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বিএনপি কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। দলীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি নির্বাচনের মাঠেও তার অবস্থান ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর মধ্যে একটি নির্বাচন ছাড়া বাকি সবগুলোতেই অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় তিনি ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।

প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ছিলেন এক অবিচ্ছেদ্য ও প্রভাবশালী নাম। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি কখনো পরাজয়ের মুখ দেখেননি।

গত ২৮ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলছিল। এরপরও বিএনপির পক্ষ থেকে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন।

১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১—এই তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রতিবার পাঁচটি করে আসনে প্রার্থী হয়ে সবগুলোতেই বিজয় অর্জন করেন। এছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতেই জয়ী হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করলেও—মাত্র ৩০টি আসন পেলেও—খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নির্বাচনী সাফল্যে কোনো প্রভাব পড়েনি।

২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭—এই তিনটি আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তবে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হয়ে পড়েন।

তার অতীত নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, বগুড়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের আসনগুলো থেকে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এছাড়া ১৯৯১ সালে ঢাকার একটি আসন এবং ২০০১ সালে খুলনার একটি আসন থেকেও নির্বাচন করেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222