কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গংগারহাট সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্য নিজের রাইফেলের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঘটে। নিহত বিজিবি সদস্যের নাম নাসিম উদ্দিন (২৪)। তিনি ঝিনাইদহ জেলা সদরের খাজুরা গ্রামের আবুল মন্ডলের ছেলে। নিহত নাসিম উদ্দিন লালমনিরহাট বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের ফুলবাড়ী গংগারহাট সীমান্ত ফাঁড়িতে সিপাহি পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই বিজিবি সদস্য আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা তার।
ওসি মাহমুদ হাসান নাইম জানান, রাতে বিজিবির সুবেদার জাহাঙ্গীর হোসেনের মাধ্যমে আমরা খবর পাই যে টহলে যাওয়ার আগমুহূর্তে নিজের অস্ত্রের গুলিতে এক বিজিবি সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। তার লাশ ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছে। তখন আমরা সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ শেষে শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য ওই বিজিবি সদস্যের লাশ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, রাত দেড়টার দিকে টহলে যাওয়ার উদ্দেশে ইউনিফর্ম পরে নিজ অস্ত্র বুঝে নেন সৈনিক নাসিম উদ্দিন। একপর্যায়ে ব্যারাকের পূর্বপাশে ক্যাম্পের বাউন্ডারির ভেতরে নিজের বুকে নিজেই গুলি করেন তিনি। গুলির শব্দে সহকর্মীরা দৌড়ে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে টেনেহিঁচড়ে ব্যারাকের বারান্দায় নিয়ে আসেন। সেখান থেকে দ্রুত তাকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, সিপাহী নাসিম উদ্দিনের বুকের মাঝখানে গুলি বিদ্ধ হয়েছে। তিনি নিজ রাইফেলের গুলিতে ‘আত্মহত্যা’ করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ ও বিজিবি। তবে ঠিক কী কারণে তিনি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালে যায় পুলিশ। নিহতের বুকের মাঝখানে গুলি বিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান বলেন, “সিপাহী নাসিম উদ্দিন নিজ সার্ভিস রাইফেলের গুলিতে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
এ ব্যাপারে বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এমএআর/
