স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার ম্যাচে গোল উদ্যাপন কেন্দ্র করে ফরিদপুরে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিনিয়র শিক্ষার্থীরা হোস্টেলের দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে জুনিয়রদের বাথরুমে আটকে রেখে মারধর করে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ফরিদপুর শহরতলীর চুনাঘাটা এলাকায় অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির আবাসিক ছাত্র হোস্টেলে এ ঘটনা ঘটে।
এই হামলায় অন্তত সাতজন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীরা হলেন মেরিন টেকনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র আমিরুল ইসলাম (১৮), নিরব হোসেন (১৯) ও জুনায়েদ হোসেন (১৯)। এছাড়া শিপ বিল্ডিং বিভাগের তাহসানসহ একই বর্ষের হাসিন, সজিব ও খতিবুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের অভিযোগ, মেরিন টেকনোলজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী পিয়াস, আদনান, কাউছার, নাঈম, বিল্লাল ও ইমনসহ ২০–৩০ জন সিনিয়র শিক্ষার্থী হঠাৎ করে তাদের ওপর হামলা চালায়।
শিপ টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব আলী খান বলেন, রাতে রুমে বসে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার খেলা দেখার সময় গোল হলে কয়েকজন উল্লাস করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সিনিয়ররা লাঠি, লোহার রড ও স্টিলের পাইপ নিয়ে হামলা চালায়। দরজা ভেঙে রুমে ঢুকে মারধর করা হয়। কয়েকজনের মাথা ফেটে রক্ত ঝরলেও হামলাকারীরা থামেনি। এমনকি বাথরুমে আটকে রেখেও নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসে র্যাগিং ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় জুনিয়রদের ওপর সিনিয়ররা আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। এ সময় হোস্টেলের জানালা, দরজা ও খাট ভাঙচুর করা হয় এবং টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী পিয়াস হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি কোনো একতরফা হামলা নয়, বরং দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝি থেকেই ঘটনার সূত্রপাত এবং কোনো ভাঙচুর হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় তাদের পক্ষের দুজনকেও হাসপাতালে নিতে হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টিএইচএ/
