আল্লামা গহরপুরীকে নিয়ে এমপির কটূক্তি, ফুঁসে উঠছে তৌহিদি জনতা

by Abid vs36

৩৬ নিউজ ডেস্ক: সিলেটের সর্বজনশ্রদ্ধেয় বরেণ্য আলেম ও বুজুর্গ, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি শায়খুল হাদিস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিলেট ৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এম এ মালেকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে তাকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সর্বস্তরের এলাকাবাসী। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনে নামার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার (৫ জুন) সিলেটের বালাগঞ্জের গহরপুর এলাকায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ মালেক। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করায় এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তবে এর পরপরই তিনি সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুর তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। একপর্যায়ে এমপি মালেক বলেন যে, তিনি এই অঞ্চলকে ‘পাকিস্তান’ মনে করতেন। একই সাথে তিনি মাওলানা রাজুর পিতা, উপমহাদেশের সর্বজন স্বীকৃত বুজুর্গ আল্লামা গহরপুরী রহ. কে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ এবং ‘পাকিস্তানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বিজ্ঞাপন
banner

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এম এ মালেকের এই বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আল্লামা গহরপুরীর ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা থাকায় সরকার দলীয় এই এমপির বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আলেম সমাজ। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিএনপি নেতার মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এই বক্তব্যে সিলেটবাসী বিশেষ করে সিলেট ৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) নির্বাচনি এলাকার সাধারণ মানুষ চরমভাবে আহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা এমপিকে তার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য দ্রুত নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, লন্ডন বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালেক গত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সিলেট ৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। তার সঙ্গে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরের মুহতামিম, বেফাকের সহসভাপতি এবং আল্লামা গহরপুরী রহ.-এর একমাত্র সাহেবজাদা মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীক নিয়ে ১১ দলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির এই প্রার্থী ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছেন বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন বিরোধীরা। এই রাজনৈতিক রেষারেষির জেরে একজন মরহুম ধর্মীয় অভিভাবককে জড়িয়ে এমন মন্তব্য করায় পুরো সিলেট অঞ্চলে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222