ইসলামপন্থিদের ভোট এক বাক্সে আনার চেষ্টা কি থমকে গেল?

by hsnalmahmud@gmail.com

আতাউল্লাহ নাবহান মামদুহ >>

বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট ‘এক বাক্সে আনা’ বা ‘ওয়ান বক্স নীতি’ বাস্তবায়নের চেষ্টা আপাতত থমকে গেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট থেকে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের অনৈক্য ও আদর্শিক ভেদাভেদ থাকায় জোটবদ্ধ হয়ে অগ্রসর হওয়া সহজ নয়।

বিজ্ঞাপন
banner

জামায়াতে ইসলামী বলেছে, তারা এখনও ‘ওয়ান বক্স নীতি’-তে রয়েছে এবং ইসলামপন্থিদের ভোট একত্রিত করার সময় এখনো শেষ হয়নি। তবে ইসলামী আন্দোলনের মতে, জামায়াতের আমির ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না—এর মতো ঘোষণার মাধ্যমে দুই দলের মধ্যে আদর্শিক দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, “তারা আমাদের বলেছিল ক্ষমতায় গেলে ইসলামের বিধি-বিধান ও শরিয়াহ আইন কার্যকর করবেন। কিন্তু এখন তারা সরে গেছে। মৌলিক জায়গা থেকে সরে যাওয়ায় তাদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন।”

নির্বাচনী জোটের প্রেক্ষাপট

ভোট এক বাক্সে আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের আগস্টে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরপরই। জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বরিশালের চরমোনাইয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতারা সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। তখন তারা অভিন্ন ‘থিম’ ধরে নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া নিয়ে মতবিনিময় শুরু করেন।

এর ধারাবাহিকতায় জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট আটটি ইসলামি দল নির্বাচনে আসন সমঝোতার মোর্চা গঠন করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় আগে ইসলামী আন্দোলন ঘোষণা করেছে, তারা জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে না থেকে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে।

জোটবদ্ধ দলের নেতারা মনে করছেন, আসন বণ্টন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জমায়াতের কর্তৃত্ব সুলভ আচরণ ইসলামী আন্দোলনের অসন্তোষের কারণ। বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামী ১১ দলের মধ্যে ২৫৩ আসনে সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়।

বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জোট না হলে উভয় দলই কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন উভয়েই অল্প ভোটের কারণে কিছু আসনে বিপর্যয়ে পড়তে পারে। তবে জোটবদ্ধ প্রচেষ্টা নষ্ট হলেও এটি দলের আলোচনার টেবিলে বসার প্রয়াস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

শরীফ মুহাম্মদ, ইসলামিক বিষয়ক লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “ইসলামপন্থি ভোটার আসলে কারা এবং কিভাবে এক বাক্সে আনা হবে—এটি কখনও পরিষ্কার হয়নি। নির্বাচনী জোট না হলেও কিছু আসনে ক্ষতি হবে।”

তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক মন্তব্য করেছেন, ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্ত বোঝাপড়ার ঘাটতি থেকে এসেছে, তৃতীয় পক্ষের কোনও প্রভাব নেই। তিনি আরও বলেন, “চূড়ান্ত সময়ে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে রাজনীতিতে শেষ কথা কখনও বলা যায় না, ভবিষ্যতে পুনরায় মিলিত হওয়ার আশা রয়েছে।”

জোটে ফেরাতে চায় এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ জানান, ইসলামী আন্দোলনের জন্য জোটের দরজা এখনও খোলা। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, তারা জোটে ফিরবেন এবং একসাথে নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দেব।”

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222