এমরান হোসেন, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের বাঁক পরিবর্তনের নির্বাচন। এই নির্বাচন ১৪ শত শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে, ৩৪ হাজার পঙ্গুত্ববরণকারীর ত্যাগের নির্বাচন। আয়না ঘরের অন্ধকার জগতের অবসানের পর এই নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের পথরেখা তৈরি করবে।”
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে জামালপুর পৌর শহরের সিংহজানী স্কুল মাঠে জামালপুর জেলা জামায়তের সেক্রেটারী ও জামালপুর -৪ আসনের এমপি প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আওয়ালের সঞ্চালনায় এবং জামালপুর সদর-৫ আসনের এমপি প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং যারা আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন—তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। জনগণের রায়ের মাধ্যমেই সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।” এজন্য তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
এসময় তিনি বলেন, “কোনো কোনো জায়গায় মায়েরা ভোট চাইতে গেলে অপমান করছে দূর্বৃত্তরা। আমাদের মায়েদের কি এই অধিকার নাই? তাদের কি এই দায়িত্ব নাই? যারা মায়ের গায়ে হাত তুলে। তারা কোন প্রজাতির? আমি বুঝতে পারি না। এরা কি মানুষ প্রজাতির নাকি অন্য প্রজাতির? এই কয়দিন ধরে উৎপাত শুরু হয়েছে। আমরা চাই সবাই যার যার কর্মসূচী, পরিকল্পনা, বক্তব্য নিয়ে জনগনের কাছে যাক। মায়েদের অপমান আমরা সহ্য করবো না। যদি কোনো দূর্বৃত্ত আপনাদের কটু কথা বলে। চোখে চোখ রেখে বলবেন আমি মা, আমি তোমাদের পরোয়া করি না, আমি পরোয়া করি আল্লাহকে।”
ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, “কিছু দল হ্যাঁ ভোটের ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলতে চান না। আমরা তাদের কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চাই- আমরা যেভাবে ১৮ কোটি মানুষের সামনে গিয়ে, সব জায়গায় সবাই বলছি সংস্কারে হ্যাঁ ভোট, গনভোটে হ্যাঁ ভোট। আপনারা হ্যাঁ নাকি না সেটি ভালো করে বলেন। আস্তে আস্তে লুকিয়ে লুকিয়ে বলেন কেনো?” তিনি প্রকাশ্যে কথা বলার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না। বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিবো আমরা।”
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারী ড. ছামিউল হক ফারুকী, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, “জামালপুরসহ সারাদেশে নির্বাচনী মাঠে জনগণের ব্যাপক সাড়া পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।”
বক্তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সভায় পাঁচটি আসনের জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এমএআর/
