কয়েক দশক ধরে সৌদি আরবকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রপন্থি বলয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে রিয়াদের অবস্থানও ছিল কঠোর। একই সঙ্গে ধারণা ছিল, যেকোনো সময় ইসরাইলের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে সৌদি।
এমনকি ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর ১৬ দিন আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘে ‘ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি’ বাস্তবায়নের আশার কথা বলেছিলেন।
এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য গঠিত আব্রাহাম অ্যাকোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য বার বার বলেছিলেন। এমনকি রিয়াদ শিগগিরই ইহুদি রাষ্ট্র স্বীকার করবে বলেও তিনি একাধিক বার জানিয়েছেন। তবে গাজায় আগ্রাসনের পর এসব আলোচনা অতীত হয়ে গেছে।
সৌদি আসলে কোনো পথেই হাঁটেনি। যুবরাজ সালমান তার দেশকে না নিয়ে গেলেন ইসলামপন্থিদের দলে না এগুলেন পশ্চিমাদের দিকে। আসলে তিনি কোন পথে হাঁটছেন তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদির কয়েকটি কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে টানাপোড়েন, কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা এবং সৌদি গণমাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষী ভাষা বাড়ার ঘটনায় অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন-যুবরাজ সালমান ইসলামপন্থি একটি আঞ্চলিক জোটের দিকে ঝুঁকছেন কিনা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনাও কি উবে যাচ্ছে?
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন উদ্বেগ অনেকটাই অতিরঞ্জিত। তারা বলছেন, রিয়াদ কোনো আদর্শিক ইসলামপন্থি জোটে যোগ দিচ্ছে না, বরং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার অংশ হিসেবেই নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত ও বার্তা দিচ্ছে।
এনআর/
