মাহমুদুল হাসান>> হলিউড সিনেমা কিংবা বিশ্বখ্যাত সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর শুটিংয়ের জন্য বিখ্যাত মরক্কোর ওউয়ারজাজাত শহর। সেই ঐতিহাসিক লোকেশনে এবার প্রতিধ্বনিত হলো এক বাঙালি তরুণের কণ্ঠস্বর। আভিজাত্যময় পোশাক আর প্রশান্ত চাহনিতে মরুভূমির তপ্ত ভোরে আধ্যাত্মিকতার পরশ বুলিয়ে দিলেন বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় নাশিদ শিল্পী মুছলেহ উদ্দিন আখন্দ, যিনি সংক্ষেপে ‘মুছলেহ’ নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ব্যবসায়িক পরিচিতি ছাপিয়ে ইসলামি সংগীত বা নাশিদকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া এই শিল্পী এবার উর্দু ভাষায় তার নতুন কাজ ‘ইয়া শাফী’ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
বদর আল হাসানির শৈল্পিক নির্দেশনায় মরক্কোর প্রাচীন স্থাপত্য ও মরুভূমির আবহে নির্মিত এই ভিডিওটি বিশ্বমানের নির্মাণশৈলীর এক অনন্য উদাহরণ। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে আত্মাকে প্রশান্তি দেওয়ার এক আধ্যাত্মিক দাওয়াই হিসেবে এই নাশিদটিকে দেখছেন শ্রোতারা। নিজের এই নতুন সৃষ্টি নিয়ে মুছলেহ জানান, এটি মূলত হৃদয়ের গভীর থেকে আসা এক নিঃশব্দ প্রার্থনা, যার মাধ্যমে মানুষ যেন জাগতিক যাতনা ভুলে স্রষ্টার ‘শিফা’ বা আরোগ্যের দিকে মনোনিবেশ করতে পারে।
মুছলেহের প্রতিটি কাজের পেছনেই থাকে একেকটি গল্প। তুরস্কের আয়া সোফিয়া মসজিদের সামনে চিত্রায়িত ‘রাহমান’ প্রজেক্টে যেমন একজন যুবকের ভুল পথ থেকে স্রষ্টার পথে ফেরার আকুতি ফুটে উঠেছিল, তেমনি গাজীপুরের লোকেশনে ২৫০ জন অভিনয়শিল্পী নিয়ে নির্মিত ‘রক্তের পরিচয়’ নাশিদটি দেশের ইসলামি সংগীত জগতে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বিদেশি লোকেশনে শুটিং নিয়ে সমালোচনার জবাবে মুছলেহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন যে, বিশ্বমানের ভিজ্যুয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ নিশ্চিত করতেই তিনি আন্তর্জাতিক লোকেশন বেছে নেন, যাতে একজন বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারেন।
ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি পেরিয়ে মুছলেহ এখন তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরির স্বপ্ন দেখছেন। যেখানে ‘হালাল আর্ট’ এবং ‘ইসলামিক কনটেন্ট ক্রিয়েশন’ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। যারা হতাশা কিংবা পরিচয়হীনতায় ভুগছেন, তাদের সুরের মূর্ছনায় তওবার পথে আহ্বান জানানোই তার আগামীর লক্ষ্য।
টিএইচএ/
