নিরাপত্তা ও নারী অধিকারে আশার আলো দেখাচ্ছে আফগানিস্তান

by Abid

আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>

বিশ্বজুড়ে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা আন্তর্জাতিক সূচক ও গবেষণা প্রকাশিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্নধর্মী কিছু ইতিবাচক আলোচনা সামনে আসছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও অস্থিরতার পর দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় নারীদের দৈনন্দিন জীবনেও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত ও সহিংসতা কমে যাওয়ায় আফগানিস্তানের অনেক প্রদেশে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। সড়ক ও জনপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ফলে পরিবার ও সমাজে নারীদের নিরাপত্তাবোধও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সংঘর্ষ কমে যাওয়ায় নারীদের বাজারে যাওয়া, পারিবারিক কাজকর্ম বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বর্তমান প্রশাসনও নারীদের মর্যাদা ও সুরক্ষাকে সামাজিক মূল্যবোধের অংশ হিসেবে তুলে ধরার কথা বলছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নারীকে পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হয় এবং ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে নারী স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃসেবা এবং পরিবারভিত্তিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা নারীদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতেও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। মাতৃস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচির ফলে অনেক এলাকায় প্রসূতি ও মাতৃসেবার সুযোগ বেড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি বৃদ্ধির ফলে অনেক নারী চিকিৎসাসেবা নিতে আগের তুলনায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।

বাংলাদেশ সফর শেষে আফগানিস্তান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশটিতে তিনটি বিষয় তার কাছে বিশেষভাবে চোখে পড়েছে—নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং দ্রুত বিচারব্যবস্থা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে বিপুলসংখ্যক মানুষের হাতে অস্ত্র থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতার ঘটনা খুব কম শোনা যায়। “কমপক্ষে ৫০ লাখ মানুষের হাতে ভারী অস্ত্র আছে। কিন্তু গত চার বছরে বড় ধরনের মারামারি, হানাহানি বা রক্তপাতের ঘটনা নেই। ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনাও খুব একটা শোনা যায় না। অল্প সময়ের মধ্যে তারা একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরি করেছে,” বলেন তিনি।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও দেশটি নানা আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও কিছু অগ্রগতির চেষ্টা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, প্রধানত কাস্টমস ও খনিজ সম্পদের আয় দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধাহত পরিবার, এতিম ও বিধবাদের জন্য ভাতা কর্মসূচিও চালু রয়েছে। এমনকি যুদ্ধে বিপরীত পক্ষের নিহতদের পরিবারকেও সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি জানান।

বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রেও দ্রুত নিষ্পত্তির একটি কাঠামোর কথা তুলে ধরেন তিনি। তার বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে নিম্ন আদালত, আপিল আদালত এবং সর্বোচ্চ আদালত—এই তিন স্তরের বিচারব্যবস্থা রয়েছে এবং নিম্ন আদালতে সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারিত থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই বাদী ও বিবাদী নিজেরাই আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন, ফলে মামলার প্রক্রিয়াও তুলনামূলক সহজ হয়।

নারীদের সামাজিক উপস্থিতি সম্পর্কেও তিনি কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে কেনাকাটা করা, রাস্তায় চলাচল করা বা আলাদা স্থানে খাবার খাওয়ার মতো দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ দেখা গেছে। অনেক নারী গাড়ি চালাতেও দেখা গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নারী শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন শিক্ষাব্যবস্থা নতুনভাবে পুনর্গঠনের কাজ করছে। মেয়েদের জন্য পৃথক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এর পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাও চালু রয়েছে। উচ্চশিক্ষা নিয়ে নতুন কারিকুলাম তৈরির কাজ চলছে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বহু বছরের সংঘাতের পর আফগানিস্তানে নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা দেশটির সামগ্রিক উন্নয়ন ও সামাজিক ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, এই স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও আরও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222