ইসরায়েলের অভ্যন্তরে চলমান সামরিক অভিযানে ইরান কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকছে তেহরান। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসার একটি ইঙ্গিত হতে পারে। জর্ডানের সামরিক বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিদাল আবু জায়েদ আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণে দাবি করেছেন, ইরান এখন সংখ্যার চেয়ে লক্ষ্যবস্তুর ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।
জেনারেল আবু জায়েদ জানান, আগে ইরান প্রতিটি হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ঘোষণা করলেও বর্তমানে তারা কেবল ‘হামলা চালানো হয়েছে’-এমন সাধারণ বিবৃতি দিচ্ছে। তবে সংখ্যার তথ্য গোপন করলেও তারা এখন ইসরায়েলের অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং উচ্চমূল্যের সামরিক কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করছে। তার মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে ইরান সামরিকভাবে কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা এখন তাদের অভিযানের সর্বোচ্চ সীমায় (পিক পয়েন্ট) পৌঁছে গেছে। এর ফলে তারা হয়তো এখন অভিযানের মাত্রা কমিয়ে আনবে অথবা বিপর্যয় এড়াতে কৌশল পরিবর্তন করবে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, গত বুধবার লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বড় ধরনের অভিযান ছিল ইরানের হয়ে একটি ‘ছায়াযুদ্ধ’। হিজবুল্লাহ এদিন স্বল্প, মাঝারি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তেল আবিব পর্যন্ত বিশাল এলাকায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখে। তেহরান এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে পালমাখিম বিমান ঘাঁটি, শিন বেত সদর দপ্তর এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল কেন্দ্র ‘সি ফোর আই’ (C4I) লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে।
বিশেষজ্ঞের মতে, হিজবুল্লাহকে দিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা প্রমাণ করে যে ইরান তার নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাঁচাতে চাইছে। অন্যদিকে, প্রতিটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে ইসরায়েল ও আমেরিকার খরচ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ, যা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও চাপের মুখে ফেলছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/