ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা এবং সম্ভাব্য মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রহস্য ও গুঞ্জন ঘনীভূত হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া নতুন দফার সংঘাতের পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে না দেখা যাওয়ায় এই জল্পনা তীব্রতর হয়েছে। বিশেষ করে নেতানিয়াহুর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলোর সাম্প্রতিক কার্যক্রম বিশ্লেষণে এমন কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যা তার গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর সম্ভাবনাকে উস্কে দিচ্ছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলি ও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতেও এখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর অতীত কার্যক্রমের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ১২ দিনের যুদ্ধের সময় নেতানিয়াহু প্রতিদিন গড়ে একাধিক পোস্ট করতেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল তার সরাসরি ভিডিও বার্তা। অথচ বর্তমান সংঘাত ১২ দিনের বেশি সময় ধরে চললেও তার পেজ থেকে পোস্টের সংখ্যা পূর্বের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। গত তিন দিন ধরে তার কোনো নতুন পোস্ট পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতি সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওগুলো সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, কারণ সেগুলোতে চিত্রগ্রহণের কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত নেই।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পাল্টায় ইরান যখন ইসরাইলের ভূখণ্ড ও নেতানিয়াহুর কার্যালয় লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, তখন থেকেই তিনি আড়ালে রয়েছেন। আইআরজিসি (IRGC) এর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, নেতানিয়াহু বেঁচে থাকলে তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে। এই রহস্যময় নীরবতার মাঝেও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কোনো জোরালো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা তথ্য প্রকাশ না করায় সন্দেহ আরও দানা বাঁধছে। নেতানিয়াহু আসলেই বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, বর্তমানে এই প্রণালি শুধুমাত্র ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোকে এই নৌপথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
টিএইচএ/
