উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারী দুটি দেশের মাধ্যমে তেহরানের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক অধিবেশনে মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে মোজতবার প্রতি তাদের ‘আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করেছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি বা সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ নেতার প্রতিটি আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে সদা প্রস্তুত। ফলে আমেরিকার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর এই অঞ্চলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, তেহরানে গত রাতের নজিরবিহীন বিমান হামলার পর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, আইডিএফ-এর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হয়েছেন। আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই দাবির কথা প্রচার করলেও ইরান এখন পর্যন্ত লারিজানি বা সোলেইমানির ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। নিজের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ওপর হামলার খবরের মধ্যেই মোজতবা খামেনির এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
টিএইচএ/
