চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের অকার্যকর ও পরিত্যক্ত কার্যালয় ‘অবমুক্ত’ করার ঘোষণা দিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে চুয়াডাঙ্গা শহরের পৌরসভা মোড়ে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়ে তারা এই ঝটিকা কর্মসূচি পালন করেন। পরবর্তীতে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমদাদুল হক সজলের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যালয় অবমুক্ত করার ঘোষণা দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন দলীয় স্লোগান দিচ্ছেন।
জানা যায়, সংক্ষিপ্ত এই কর্মসূচিতে মোট পাঁচজনকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে তিনজনই নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে মাথায় হেলমেট পরিহিত ছিলেন। তাদের হাতে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা ও একটি ব্যানারও দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তারা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ঘোষণা দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জেলা আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে ভবনটিতে পুনরায় হামলা চালানো হয়। ওই সময় বুলডোজার দিয়ে চারতলা বিশিষ্ট এই ভবনের সামনের অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই এই ভবনটি অকার্যকর ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দলটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়লেও নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে ছাত্রলীগের এই ঝটিকা অবস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
টিএইচএ/
