চলমান সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে এই প্রথমবারের মতো ইরানের আকাশসীমায় শক্তিশালী বি-৫২ স্ট্র্যাটোফর্ট্রেস (B-52 Stratofortress) বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাশে নিয়ে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এটি একটি কৌশলগত পরিবর্তন। এর আগে ইরানের আকাশসীমায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র মূলত বি-২ এবং বি-১-এর মতো অত্যন্ত আধুনিক ও দ্রুতগতির বিমান ব্যবহার করত।
সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত ও নিরবচ্ছিন্ন যৌথ অভিযানের ফলে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখন বি-৫২-এর মতো বিশাল আকৃতির ও তুলনামূলক ধীরগতির বোমারু বিমানগুলোও নিরাপদে ওই অঞ্চলে উড়তে সক্ষম হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রথমবারের মতো ইরানের স্থলভাগের ওপর দিয়ে বি-৫২ মিশন পরিচালনা করার ফলে শত্রুপক্ষের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো হলেও অত্যন্ত বিধ্বংসী এই বিমান মোতায়েন করার অর্থ হলো ইরান এখন বড় ধরনের আকাশ হামলার মুখে অনেক বেশি অরক্ষিত।
পেন্টাগনের এই পদক্ষেপকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাসের একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বি-৫২ বিমানগুলো বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ বহনে সক্ষম হওয়ায় ভবিষ্যতে অভিযানের ধরন ও ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে আগে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হতো, সেখানে এখন সরাসরি শক্তিশালী বোমারু বিমান মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টিএইচএ/
